যাদবপুর স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে উত্তপ্ত পরিস্থিতির পর গ্রেফতার হওয়া সিপিএম নেতা সৃজন ভট্টাচার্য-সহ পাঁচ জনকে জামিন দিল আদালত। সোমবার আলিপুর পুলিশ আদালতে তোলা হলে বিচারক তাঁদের জামিনের আবেদন মঞ্জুর করেন। প্রত্যেককে এক হাজার টাকার ব্যক্তিগত বন্ডে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য হয়েছে আগামী ৩ নভেম্বর।
আদালত জানিয়েছে, জামিনে মুক্তি পেলেও তদন্তের কাজে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করতে হবে অভিযুক্তদের। তদন্তকারী সংস্থা যখনই ডেকে পাঠাবে, তখনই হাজির থাকতে হবে।
রবিবার রাতে যাদবপুর স্টেশন চত্বরে রেলের জমি থেকে অবৈধ দখল সরানোর উদ্দেশ্যে একটি বড় অভিযান চালানো হয়। ওই এলাকায় বহু দোকান ও অন্যান্য কাঠামো ভেঙে ফেলা হয়। প্রশাসনের তরফে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। ঘটনাস্থলে প্রচুর পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন ছিল। বিভিন্ন জায়গায় ব্যারিকেডও বসানো হয়।
উচ্ছেদ কর্মসূচির বিরুদ্ধে বিকেল থেকেই বাম ও কংগ্রেস সমর্থকদের বিক্ষোভ শুরু হয়েছিল। তাঁদের অভিযোগ ছিল, পুনর্বাসনের ব্যবস্থা না করে জীবিকা নির্বাহের জায়গা থেকে মানুষকে সরিয়ে দেওয়া অন্যায়। বিক্ষোভের মধ্যেই কয়েকজন নেতাকর্মীকে আটক করে পুলিশ। তাঁদের মধ্যে ছিলেন সৃজন ভট্টাচার্যও।
পুলিশের গাড়িতে তোলার সময় সৃজন অভিযোগ করেন, প্রশাসন আইন মেনে কাজ করছে না। তাঁর দাবি, আদালতের কিছু নির্দেশ এখনও কার্যকর রয়েছে এবং সেই বিষয়গুলি বিবেচনা না করেই উচ্ছেদের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, বিষয়টি নিয়ে রেল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আগে আলোচনা হয়েছিল এবং কিছু নথি জমা দেওয়ার জন্য সময় চাওয়া হয়েছিল।
অভিযান চলাকালীন বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের ধস্তাধস্তির ঘটনাও সামনে আসে। বিরোধীদের অভিযোগ, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ বলপ্রয়োগ করেছে। এই ঘটনায় কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। তাঁদের মধ্যে নাট্যকর্মী জয়রাজ ভট্টাচার্যের মাথায় চোট লাগে বলে অভিযোগ।
ঘটনার পর রাজনৈতিক মহলে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। একদিকে প্রশাসন অবৈধ দখলমুক্ত করার প্রয়োজনীয়তার কথা বলছে, অন্যদিকে বিরোধীরা পুনর্বাসন ছাড়া উচ্ছেদের বিরোধিতা করছে। আদালতের জামিনের নির্দেশের পর আপাতত গ্রেফতারদের মুক্তি মিললেও যাদবপুরের এই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক ও আইনি লড়াই যে এখনও শেষ হয়নি, তা স্পষ্ট।


