দীর্ঘ চার বছর পর কর্ণাটক সরকার তাদের বিতর্কিত হিজাব নিষেধাজ্ঞা সংক্রান্ত নির্দেশিকা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাহার করে নিয়েছে। বুধবার রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, এখন থেকে সরকারি ও সরকার-পোষিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নির্ধারিত ইউনিফর্মের পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা হিজাব বা মাথা ঢাকা পোশাক ব্যবহার করতে পারবে।
২০২২ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন বিজেপি সরকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে হিজাবসহ মাথা ঢাকা পোশাক নিষিদ্ধ করেছিল। সেই সিদ্ধান্ত ঘিরে রাজ্যজুড়ে তীব্র বিক্ষোভ ও সাম্প্রদায়িক উত্তেজনার সৃষ্টি হয় এবং বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘ আইনি লড়াই শুরু হয়। অবশেষে বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী সিদ্ধারামাইয়ার নেতৃত্বাধীন সরকার সেই পুরনো নির্দেশ বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
রাজ্যের স্কুল শিক্ষা ও সাক্ষরতা মন্ত্রী মধু বাঙ্গারাপ্পা জানিয়েছেন, সরকার শিক্ষার পরিবেশকে আরও সহজ ও বৈষম্যমুক্ত করতে চায়। নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, শিক্ষার্থীরা স্কুলের নির্ধারিত পোশাক বা ইউনিফর্মের সঙ্গেই হিজাব, স্কার্ফ, পাগড়ি, পবিত্র সুতো (জানিভারা), রুদ্রাক্ষ বা তিলকের মতো প্রচলিত ধর্মীয় প্রতীকগুলি ব্যবহার করতে পারবেন। তবে এই প্রতীকগুলি যেন ইউনিফর্মের বিকল্প না হয় এবং স্কুলের নিরাপত্তা বা শৃঙ্খলায় কোনো বিঘ্ন না ঘটায়, সেদিকে লক্ষ্য রাখতে বলা হয়েছে।
সরকার আরও স্পষ্ট করেছে যে, ধর্মীয় চিহ্নের কারণে কোনো শিক্ষার্থীকে ভর্তি নেওয়া থেকে আটকানো যাবে না বা পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা যাবে না। একইভাবে, কাউকে জোর করে কোনো ধর্মীয় পোশাক পরতেও বাধ্য করা যাবে না।
সম্প্রতি কর্ণাটক কমন এন্ট্রান্স টেস্ট চলাকালীন কয়েকজন ছাত্রকে তাদের পবিত্র সুতো বা জানিভারা খুলতে বাধ্য করা হয়েছিল। এই ঘটনার উল্লেখ করে মন্ত্রী জানান, ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে কোনো শিক্ষার্থী যাতে মানসিক কষ্ট না পায় বা বৈষম্যের শিকার না হয়, তা নিশ্চিত করাই সরকারের মূল লক্ষ্য। রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী দিনেশ গুন্ডু রাও এই সিদ্ধান্তকে সমর্থন করে জানিয়েছেন, সিঁদুর, হিজাব বা পাগড়ি খুলতে বলা হলে শিশুদের মনে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে, যা বন্ধ হওয়া প্রয়োজন।
উল্লেখ্য, ২০২২ সালের সেই নিষেধাজ্ঞার মামলাটি বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টের বৃহত্তর বেঞ্চে বিচারাধীন রয়েছে। তার মধ্যেই রাজ্য সরকারের এই নতুন সিদ্ধান্তের ফলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পোশাক নিয়ে চলা দীর্ঘদিনের বিতর্কে নতুন মোড় এল।


