পশ্চিমবঙ্গে পশু জবাইয়ের ক্ষেত্রে নিয়মবিধি আরও কঠোর করল রাজ্য সরকার। ১৯৫০ সালের পশু জবাই নিয়ন্ত্রণ আইনকে কার্যকর করতে সম্প্রতি একটি নতুন বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। কলকাতা হাইকোর্টের রায় ও পূর্বের সরকারি নির্দেশিকাকে ভিত্তি করে তৈরি এই বিজ্ঞপ্তিতে মূলত আটটি প্রধান বিষয়ের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
এখন থেকে রাজ্যজুড়ে গরু, মহিষ বা বলদের মতো কোনো প্রাণী জবাই করার আগে নির্দিষ্ট শংসাপত্র নেওয়া বাধ্যতামূলক। কোনো ব্যক্তি নিজের ইচ্ছামতো এই প্রাণীগুলি জবাই করতে পারবেন না। নিয়ম অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট প্রাণীর বয়স ১৪ বছরের বেশি হতে হবে অথবা সেটিকে প্রজনন বা ভারী কাজের জন্য স্থায়ীভাবে অক্ষম হতে হবে। পশুটি জবাইয়ের উপযুক্ত কি না, সেই শংসাপত্র দেবেন সংশ্লিষ্ট পুরসভার চেয়ারম্যান বা পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি এবং একজন সরকারি পশুচিকিৎসক। যদি কোনো কারণে কর্তৃপক্ষ শংসাপত্র দিতে অস্বীকার করেন, তবে আবেদনকারী ১৫ দিনের মধ্যে রাজ্য সরকারের কাছে আবেদন করার সুযোগ পাবেন।
জবাইয়ের স্থান নিয়েও কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শংসাপত্র থাকলেও কোনো প্রাণীকে প্রকাশ্যে জবাই করা যাবে না। কেবল সরকার নির্ধারিত কসাইখানা বা নির্দিষ্ট স্থানেই এই কাজ করা যাবে। আইন সঠিকভবে মানা হচ্ছে কি না, তা যাচাই করতে সরকারি প্রতিনিধিরা যেকোনো সময় কসাইখানা পরিদর্শন করতে পারবেন এবং তাতে কোনো বাধা দেওয়া চলবে না।
নির্দেশিকা অমান্য করলে শাস্তি নির্ধারন করা হয়েছে। নিয়ম ভাঙলে অপরাধীকে সর্বোচ্চ ছয় মাসের জেল অথবা এক হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা, কিংবা উভয় দণ্ডেই দণ্ডিত হতে হবে। ১৯৫০ সালের এই আইনের অধীনে থাকা সমস্ত অপরাধকে ‘গুরুতর’ হিসেবে গণ্য করার কথা জানিয়েছে প্রশাসন। এ সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য ও আদালতের রায়গুলি সরকারি ওয়েবসাইটে জনসাধারণের দেখার জন্য আপলোড করা হয়েছে।


