কেরলের রাজনীতিতে সাম্প্রতিক পরিবর্তনের আবহে এক বিতর্কিত ঘটনার জেরে চাপে পড়েছে কংগ্রেস শিবির। রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদলের পর দলের ভিতরে উচ্ছ্বাসের পরিবেশ তৈরি হলেও, একটি ভাইরাল ভিডিও সেই আনন্দে ছায়া ফেলেছে।
ঘটনাটি ঘটেছে প্রদেশ কংগ্রেস দপ্তরে। কোল্লাম কেন্দ্র থেকে সদ্য নির্বাচিত বিধায়ক বিন্দু কৃষ্ণা সেখানে উপস্থিত ছিলেন। সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার পর তিনি দলীয় কার্যালয়ের ভেতরে ঢুকছিলেন। সেই সময়ই এক অস্বস্তিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
ভিডিওতে দেখা যায়, বিন্দু প্রথমে এক কর্মীর সঙ্গে সৌজন্য বিনিময় করেন। এরপর তাঁর সামনে আসেন দলের প্রবীণ নেতা চেরিয়ান ফিলিপ। বিধায়ক তাঁকে নমস্কার জানান এবং করমর্দনের জন্য হাত বাড়ান। কিন্তু পরিস্থিতি সেখানেই থেমে থাকেনি। অভিযোগ, ফিলিপ করমর্দনের বদলে তাঁকে জড়িয়ে ধরার চেষ্টা করেন।
বিন্দু কৃষ্ণা প্রথমে হাত দিয়ে সেই চেষ্টা আটকাতে চান। তবুও ওই প্রবীণ নেতা এগিয়ে এসে আলিঙ্গনের চেষ্টা চালিয়ে যান বলে ভিডিওতে ধরা পড়েছে। শেষমেশ তিনি নিজে থেকেই সরে যান, কিন্তু ততক্ষণে ঘটনাটি উপস্থিত সকলের সামনে অস্বস্তিকর হয়ে ওঠে।
ঘটনার সময় সেখানে অন্যান্য নেতা এবং সাংবাদিকরাও উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের সামনেই পুরো ঘটনাটি ঘটে, যা পরে সোশ্যাল মিডিয়ায় দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওটি সামনে আসতেই শুরু হয়েছে তীব্র আলোচনা ও সমালোচনা।
দলের একাংশের মতে, একজন মহিলা জনপ্রতিনিধির সঙ্গে এমন আচরণ কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। অনেকেই এই ঘটনাকে অসৌজন্যমূলক এবং অসম্মানজনক বলে উল্লেখ করেছেন। অন্যদিকে, এখনও পর্যন্ত অভিযুক্ত নেতার পক্ষ থেকে প্রকাশ্যে কোনও প্রতিক্রিয়া জানা যায়নি।
এই ঘটনার পর কংগ্রেসের অন্দরে অস্বস্তি বেড়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে, নারীদের প্রতি আচরণ এবং দলীয় শৃঙ্খলা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে। বিষয়টি নিয়ে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব কী পদক্ষেপ নেয়, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।


