কেরলের রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে ধর্মীয় ইস্যু ঘিরে। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজ্যের অন্তত দুটি আসনে এনডিএ জোটের প্রার্থীদের বিরুদ্ধে বিভাজনমূলক প্রচারের অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে গুরুভায়ুর ও আলুভা কেন্দ্রকে ঘিরে এই বিতর্ক সামনে এসেছে।অভিযোগ, কিছু নির্বাচনী সভা ও প্রচারসামগ্রীতে এমন বক্তব্য তুলে ধরা হচ্ছে, যা ভোটারদের ধর্মের ভিত্তিতে প্রভাবিত করতে পারে। সেখানে মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের নির্বাচিত হওয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে এবং তার পরিবর্তে হিন্দু প্রার্থীকে সমর্থন করার আহ্বান জানানো হচ্ছে। বিষয়টি সামনে আসতেই রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে।গুরুভায়ুর কেন্দ্রের এনডিএ প্রার্থী বি. গোপালকৃষ্ণন একটি সভায় দাবি করেন, দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে এই কেন্দ্র থেকে কোনও হিন্দু বিধায়ক নির্বাচিত হননি। তিনি বলেন, একটি গুরুত্বপূর্ণ তীর্থস্থান হওয়া সত্ত্বেও কেন সেই জায়গার প্রতিনিধিত্ব হিন্দু সম্প্রদায়ের কেউ করছেন না, তা ভেবে দেখা প্রয়োজন। তাঁর এই মন্তব্যকে ঘিরেই মূল বিতর্কের সূত্রপাত।এই বক্তব্যের পর একাধিক মহল থেকে আপত্তি জানানো হয়। নির্বাচন কমিশনের কাছে লিখিত অভিযোগও জমা পড়ে। কমিশন বিষয়টি খতিয়ে দেখতে স্থানীয় প্রশাসনকে নির্দেশ দেয়। পরে পুলিশ গোপালকৃষ্ণনের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী মামলা দায়ের করে। অভিযোগ, তাঁর বক্তব্য সমাজে বিভেদ ছড়াতে পারে এবং ধর্মীয় উত্তেজনা বাড়ানোর ঝুঁকি রয়েছে।তবে এই পদক্ষেপের পরেও নিজের অবস্থান থেকে সরে আসেননি ওই প্রার্থী। তিনি প্রচার চালিয়ে যেতে থাকেন এবং একই ধরনের মন্তব্য বারবার করেন। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, নিজের বক্তব্যে তিনি অনড় এবং ভবিষ্যতেও এই প্রসঙ্গ তুলবেন।এই ঘটনায় রাজ্যের উচ্চ আদালতও নজর দেয়। একটি আবেদনের ভিত্তিতে আদালত নির্বাচন কমিশনকে বিষয়টি খতিয়ে দেখার নির্দেশ দিয়েছে। আবেদনটি করেন এক ছাত্রনেতা, যিনি অভিযোগ করেন যে, এই ধরনের প্রচার নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নষ্ট করতে পারে।এর মধ্যেই আরও একটি প্রচারপত্র সামনে আসে, যেখানে একই ধরনের বক্তব্য পুনরায় তুলে ধরা হয়েছে। তা নিয়েও রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ এবং বিভিন্ন মহল থেকে সমালোচনা শুরু হয়েছে। কেরলের এই দুই কেন্দ্রে নির্বাচনী প্রচার এখন ধর্মীয় মেরুকরণের অভিযোগে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, ততই এই ইস্যু রাজ্যের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
Popular Categories


