কেরলের তিরুবনন্তপুরমে বিধানসভা নির্বাচনের আর মাত্র কয়েকদিন বাকি। ঠিক এই সময়েই নতুন এক বিতর্ক ঘিরে উত্তেজনা ছড়িয়েছে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে। সিপিএম অভিযোগ করেছে, নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে পাঠানো একটি সরকারি নথিতে বিজেপির স্ট্যাম্প ব্যবহার করা হয়েছে। এই ঘটনাকে তারা অত্যন্ত গুরুতর বলে দাবি করেছে এবং গোটা নির্বাচন প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছে।
সিপিএমের তরফে জানানো হয়েছে, একটি চিঠির সঙ্গে সংযুক্ত হলফনামায় নির্বাচন কমিশনের স্ট্যাম্প থাকার কথা থাকলেও সেখানে দেখা যায় বিজেপি কেরল ইউনিটের স্ট্যাম্প লাগানো রয়েছে। দলটির দাবি, এই ধরনের ঘটনা আগে কখনও দেখা যায়নি। তাদের মতে, এটি শুধু একটি সাধারণ ভুল নয়, বরং এতে নির্বাচন ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হচ্ছে।
সামাজিক মাধ্যমে এক পোস্টে সিপিএম কেরল তীব্র ভাষায় আক্রমণ জানায় এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে। তারা ইঙ্গিত করে যে, নির্বাচন কমিশন ও বিজেপি যেন একই কেন্দ্র থেকে নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে। তাদের বক্তব্য, অন্তত আলাদা পরিচয় বজায় রাখার ন্যূনতম শিষ্টাচারও আর মানা হচ্ছে না। পাশাপাশি, ইভিএম নিয়ে আগের অভিযোগের কথাও টেনে আনে দলটি। তারা কটাক্ষ করে বলে, আগে শোনা যেত যেকোনো বোতাম চাপলেই পদ্মফুলের প্রতীক জ্বলে ওঠে, আর এবার তো সরাসরি সিল নিয়েই গরমিল দেখা গেল।
সিপিএম আরও দাবি করেছে, এই নথি একাধিক রাজনৈতিক দলের কাছেও পৌঁছেছে এবং তারা নিজেদের মধ্যে তা যাচাই করে দেখেছে। এমনকি ইমেলটি নির্বাচন কমিশনের সরকারি সূত্র থেকেই পাঠানো হয়েছে বলেও নিশ্চিত করা হয়েছে বলে জানায় তারা। এই অভিযোগ প্রকাশ্যে আসতেই দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেয় কেরলের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর। এক বিবৃতিতে তারা জানায়, বিষয়টি তাদের নজরে এসেছে এবং এটি সম্পূর্ণরূপে একটি কারিগরি ভুল। দফতরের বক্তব্য অনুযায়ী, বিজেপি কেরল ইউনিট সম্প্রতি ২০১৯ সালের কিছু নির্দেশিকা নিয়ে ব্যাখ্যা চেয়ে একটি নথি জমা দিয়েছিল, যেখানে তাদের দলের সিল ছিল।
সেই নথিরই একটি কপি অসাবধানতাবশত অন্য রাজনৈতিক দলগুলির কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। দফতরের তরফে স্বীকার করা হয়েছে, এটি নজর এড়িয়ে গিয়েছিল এবং পরবর্তীতে বিষয়টি ধরা পড়তেই সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর জানিয়েছে, ২১ মার্চ একটি সংশোধনী চিঠি জারি করে ওই ভুল নথি প্রত্যাহার করা হয়েছে। সেই চিঠি সব রাজনৈতিক দল, জেলা নির্বাচন আধিকারিক এবং রিটার্নিং অফিসারদের কাছেও পাঠানো হয়েছে।
একইসঙ্গে দফতরের দাবি, নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ রাখতে তাদের কঠোর ব্যবস্থা রয়েছে এবং বাইরের কোনো প্রভাব পড়ার সুযোগ নেই।


