পশ্চিম এশিয়ার অস্থির পরিস্থিতির কারণে বিশ্বজুড়ে জ্বালানির সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়ছে। এর প্রভাব পড়েছে দেশেও। এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্র সরকার ঘরোয়া এলপিজি সরবরাহ ঠিক রাখতে নতুন পদক্ষেপ নেওয়ার কথা ভাবছে। এর মধ্যে অন্যতম হল সিলিন্ডারে গ্যাসের পরিমাণ কমানো এবং রিফিল বুকিংয়ের মধ্যে সময়ের ব্যবধান বাড়ানো।
বর্তমানে একটি গৃহস্থালি সিলিন্ডারে ১৪.২ কেজি গ্যাস থাকে। তবে সূত্রের খবর, তা কমিয়ে ১০ কেজি বা ৭ কেজি করার বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেলবাহী জাহাজ চলাচল নিয়ে উদ্বেগ থাকায় এই সিদ্ধান্তের কথা ভাবা হচ্ছে। উদ্দেশ্য হল যাতে সবার মধ্যে সমানভাবে গ্যাস পৌঁছে দেওয়া যায় এবং কোনও ঘাটতি না হয়।
তবে সাধারণ মানুষ এতে খুব একটা সন্তুষ্ট নন। অনেকের মতে, কম গ্যাস থাকলে সিলিন্ডার দ্রুত শেষ হয়ে যাবে। ফলে রান্নার কাজ চালানো কঠিন হবে। উপরন্তু, নির্দিষ্ট সময়ের আগে নতুন করে বুকিং করা যায় না, সেটাও বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়াবে।অন্যদিকে, ডিলাররাও এই প্রস্তাব নিয়ে চিন্তায় রয়েছেন। তাদের বক্তব্য, চাহিদা বাড়ছে, আবার নানা প্রযুক্তিগত সমস্যাও রয়েছে। এর মধ্যে গ্যাসের পরিমাণ কমানো হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। ছোট সাইজের বেশি সিলিন্ডার সামলানোও একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এতে পরিবহন ও সরবরাহের চাপ বাড়বে। এছাড়া, বুকিংয়ের জন্য অপেক্ষার সময় ২৫ দিন থেকে বাড়িয়ে ৩০ দিন করা হতে পারে বলেও শোনা যাচ্ছে। এতে গ্রাহকদের অসুবিধা আরও বাড়তে পারে। অনেকেই অভিযোগ করছেন, বুকিংয়ের পরেও কবে সিলিন্ডার হাতে পাবেন, তা স্পষ্ট নয়। সব মিলিয়ে, সরবরাহের টানাপোড়েন আর গ্রাহকদের অসন্তোষ, এই দুইয়ের মাঝে পড়ে সমস্যায় পড়েছেন ডিস্ট্রিবিউটররাও।


