কেরালায় স্কুলে শুক্রবারের জুম্মার নামাজের জন্য সময় বরাদ্দ করার দাবি নিয়ে একটি উত্তপ্ত বিতর্ক চলছে। এই ঘটনার মূলে রয়েছে মুসলিম শিক্ষার্থীদের ধর্মীয় অধিকার রক্ষার আকাঙ্ক্ষা এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর নীতির মধ্যে একটি দ্বন্দ্ব। বিশেষ করে চার্চ-পরিচালিত স্কুল ও কলেজগুলো এই দাবি মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে, যার ফলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। এই বিতর্ক কেরালার শিক্ষা ব্যবস্থায় ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং সহিষ্ণুতার বিষয়টিকে সামনে এনে দিয়েছে।
বিষয়টি তখন থেকে আলোচনায় এসেছে, যখন মুসলিম ধর্মীয় নেতৃত্বের সংগঠন ‘সমস্ত কেরালা জেম-ইয়াতুল উলামা’ রাজ্য সরকারের একটি সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে। সরকার স্কুলের দৈনিক সময়সূচীতে ৩০ মিনিট বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, যার মধ্যে সকালে ১৫ মিনিট এবং সন্ধ্যায় ১৫ মিনিট যোগ করা হয়। এই পরিবর্তনের ফলে মাদ্রাসায় শিক্ষাগ্রহণকারী প্রায় ২০ লক্ষ মুসলিম শিক্ষার্থীর ধর্মীয় শিক্ষার সময় ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে ‘সমস্ত’ আশঙ্কা প্রকাশ করেছে। সংগঠনের নেতা উমর ফৈজি মুক্কাম সরকারকে সতর্ক করে বলেছেন, এই সিদ্ধান্ত যদি পুনর্বিবেচনা না করা হয়, তাহলে তারা কঠোর পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হবেন। একই সঙ্গে, সমস্ত কেরালা ইসলাম শিক্ষা বোর্ডের সাধারণ সম্পাদক এম টি আবদুল্লাহ মুসালিয়ার জোর দিয়ে বলেছেন, ইসলামে শিক্ষা ও ধর্ম একে অপরের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত, এবং তারা তাদের অবস্থান থেকে সরে আসবেন না।
এদিকে, সিরো-মালাবার ক্যাথলিক চার্চের মুখপত্র ‘দীপিকা’ এই দাবির বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নিয়েছে। তাদের একটি সম্পাদকীয়তে বলা হয়েছে, যারা গণতন্ত্র এবং ধর্মনিরপেক্ষতাকে সংবিধানের অবিচ্ছেদ্য অংশ বলে মনে করেন, তারা কীভাবে সাধারণ শিক্ষার চেয়ে ধর্মীয় শিক্ষাকে প্রাধান্য দিতে পারেন? সম্পাদকীয়তে সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে যেন তারা এই দাবির কাছে নতি স্বীকার না করে। এই বিতর্কে রাজনৈতিক দল এবং ছাত্র সংগঠনগুলোও যোগ দিয়েছে, যার ফলে বিষয়টি আরও জটিল আকার ধারণ করেছে।
কেরালার শিক্ষা ব্যবস্থায় এই ঘটনা একটি গভীর প্রশ্ন তুলেছে। মুসলিম শিক্ষার্থীরা তাদের ধর্মীয় দায়িত্ব পালনের জন্য স্কুলে সময় ও স্থান চাইছে, কিন্তু অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তা মেনে নিতে প্রস্তুত নয়। ফলে, উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ছে। এই পরিস্থিতি কেবল শিক্ষার সময়সূচীর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি ধর্মীয় সহিষ্ণুতা এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ব্যক্তিগত ধর্ম পালনের অধিকার নিয়ে একটি বৃহৎ আলোচনার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। আগামী দিনে এই বিতর্ক আরও তীব্র হতে পারে, এবং এর সমাধানে সরকার ও সমাজের বিভিন্ন অংশের মধ্যে সমন্বয় প্রয়োজন হবে।


