কলকাতা কর্পোরেশন এলাকার ভোটার তালিকা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। সবর ইনস্টিটিউটের প্রকাশিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ার পরে শহরের ১৭টি বিধানসভা কেন্দ্র মিলিয়ে ১০ লক্ষ ৫১ হাজার ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ গিয়েছে। এর মধ্যে মাত্র ২ লক্ষ ৮২ হাজারকে মৃত বলে চিহ্নিত করা হয়েছে। অর্থাৎ বাকি ৭ লক্ষ ৬৯ হাজার মানুষ জীবিত থাকা সত্ত্বেও তাঁদের নাম আর চূড়ান্ত তালিকায় নেই বলে দাবি করা হয়েছে।
এই তথ্য সামনে আসার পর আসন্ন কলকাতা পুরভোটের প্রতিনিধিত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বামপন্থী মহল এবং নাগরিক সমাজের একাংশের দাবি, এত বড় সংখ্যায় জীবিত ভোটারের নাম বাদ পড়লে ভোটার তালিকার পূর্ণতা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগ তৈরি হয়।
সবর ইনস্টিটিউটের হিসাব বলছে, এসআইআর শুরুর আগে এই ১৭টি বিধানসভা কেন্দ্রে মোট ভোটার ছিলেন প্রায় ৪২ লক্ষ ৩ হাজার। সংশোধনের বিভিন্ন ধাপে একের পর এক নাম বাদ যায়। প্রথমে অনুপস্থিত, অন্যত্র চলে যাওয়া, মৃত্যু বা ডুপ্লিকেটের মতো কারণ দেখিয়ে প্রায় ৮ লক্ষ ৯৮ হাজার নাম বাদ দেওয়া হয়। এরপর খসড়া তালিকা প্রকাশের সময় আরও প্রায় ২৬ হাজার নাম বাদ যায়। পরে তথ্যে অসঙ্গতির কারণ দেখিয়ে আরও ১ লক্ষ ২৬ হাজার নাম তালিকা থেকে সরানো হয়। সব মিলিয়ে বাদ পড়া নামের সংখ্যা পৌঁছে যায় ১০ লক্ষ ৫১ হাজারে।
সবচেয়ে বেশি নাম বাদ যাওয়ার ঘটনা দেখা গিয়েছে চৌরঙ্গী বিধানসভা কেন্দ্রে। সেখানে আগের তালিকার ৪১.৭ শতাংশ ভোটারের নাম আর নেই। জোড়াসাঁকোয় এই হার ৩৯.৪ শতাংশ, কলকাতা পোর্টে ৩২.১ শতাংশ, মেটিয়াবুরুজে ২৯.৮ শতাংশ এবং বালিগঞ্জে ২৮.২ শতাংশ। বেহালা পূর্বে ১৮.৬ শতাংশ, যাদবপুরে ১৮.৩ শতাংশ, বেহালা পশ্চিমে ১৮ শতাংশ এবং টালিগঞ্জে ১৪.৪ শতাংশ ভোটারের নাম বাদ গিয়েছে বলে পরিসংখ্যানে উল্লেখ করা হয়েছে।
এই তথ্যের ভিত্তিতে অবসরপ্রাপ্ত আইএএস আধিকারিক ও প্রাক্তন মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক জহর সরকারও প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর বক্তব্য, বিধানসভা নির্বাচনের পরে কলকাতা পুরনিগমকে কেন্দ্র করে যে রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হয়েছে, তার প্রেক্ষিতে এই পরিসংখ্যান গুরুত্বের সঙ্গে দেখা দরকার। তাঁর মতে, এত বিপুল সংখ্যক জীবিত ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ যাওয়ার প্রকৃত কারণ স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন।
কর্পোরেশন পরিচালনার সঙ্গে বিপুল প্রশাসনিক ও আর্থিক ক্ষমতা জড়িত। তাই ভোটার তালিকায় এত বড় পরিবর্তনের প্রভাব কী হতে পারে, তা নিয়েও বিভিন্ন মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। নাগরিক সমাজের একাংশের দাবি, বাদ পড়া ভোটারদের বিষয়টি দ্রুত খতিয়ে দেখা এবং প্রয়োজন হলে সংশোধনের সুযোগ নিশ্চিত করা জরুরি।

