Friday, October 30, 2026
28 C
Kolkata

রাজ্যে SIR-এ বিচারকদের ছাড়পত্র পাওয়া ভোটারদের নাম বাদ দিতে ১৬ লক্ষের বেশি আবেদন! কিছুই জানতেন না বিশেষ পর্যবেক্ষক সুব্রত গুপ্ত

পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়াকে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের যাচাইয়ের পর যাঁদের নাম ভোটার তালিকায় রাখার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল, তাঁদের নাম বাদ দেওয়ার দাবিতে নির্বাচন কমিশনের কাছে ১৬ লক্ষেরও বেশি আবেদন জমা পড়েছে। অথচ এই বিপুল সংখ্যক আবেদনের বিষয়ে কিছুই জানতেন না বলে দাবি করেছেন এসআইআরের দায়িত্বে থাকা কমিশনের বিশেষ পর্যবেক্ষক সুব্রত গুপ্ত। তাঁর বক্তব্য, এই ধরনের আবেদনের কোনও সরকারি তথ্য তাঁকে জানানো হয়নি।

‘দ্য ওয়্যার’-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সুব্রত গুপ্ত জানিয়েছেন, এসআইআর চলাকালীন সম্পূরক ভোটার তালিকা প্রকাশ পর্যন্তই পর্যবেক্ষকদের দায়িত্ব ছিল। বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে প্রকাশিত ওই তালিকায় প্রায় ৩৩ লক্ষ ভোটারের নাম রাখা হয়েছিল। অন্যদিকে, প্রায় ২৭ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ পড়েছিল। গুপ্তের দাবি, পরবর্তী সময়ে বাদ পড়া ভোটারদের একাংশ নাম ফেরানোর জন্য আবেদন করেছেন বলে তিনি শুনেছিলেন। কিন্তু যাঁদের নাম রাখার পক্ষে বিচারবিভাগীয় আধিকারিকরা রায় দিয়েছিলেন, তাঁদের বিরুদ্ধে যে এতগুলি আবেদন জমা পড়েছে, সে বিষয়ে তাঁর কাছে কোনও তথ্য ছিল না।

গুপ্ত আরও জানিয়েছেন, এই ধরনের আবেদনের কথা তিনি আগে অনানুষ্ঠানিকভাবে শুনলেও কমিশনের তরফে তাঁকে কিছু জানানো হয়নি। ফলে আবেদনের সংখ্যা এত বেশি, তা এখন জানতে পারছেন বলেই দাবি তাঁর।

উল্লেখ্য, গত ২৬ অক্টোবর সুপ্রিম কোর্টে জমা দেওয়া হলফনামায় নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতরের আধিকারিকরাই এই আবেদনগুলি করেছিলেন। জনপ্রতিনিধিত্ব আইন অনুযায়ী তাঁরা এই আবেদন করার ক্ষমতা রাখেন বলেও আদালতকে জানিয়েছে কমিশন। তবে এই বিষয়টি কমিশনের নজরে আনা হয়নি বলে হলফনামায় উল্লেখ করা হয়েছে।

কমিশনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এমন আবেদনের সংখ্যা ১৬ লক্ষ ১০ হাজার ৩১১। অন্যদিকে, ‘সিভিক রিসার্চ গ্রুপ’-এর সংগ্রহ করা নথি বিশ্লেষণ করে দেখা গিয়েছে, বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের ছাড়পত্র পাওয়া ৩২ লক্ষ ৫৩ হাজার ৪০১ জন ভোটারের মধ্যে ১৬ লক্ষ ৮ হাজার ১৭৫ জনের বিরুদ্ধে আবেদন জমা পড়েছে। অর্থাৎ প্রায় ৪৯.৪ শতাংশ ভোটারকে নিয়ে নতুন করে আপত্তি জানানো হয়েছে। অভিযোগ, ৫ এপ্রিল একসঙ্গে বিপুল সংখ্যক আবেদন জমা পড়ে। বিধানসভা নির্বাচনের জন্য ভোটার তালিকা চূড়ান্ত হওয়ার মাত্র দু’দিন আগে এই ঘটনা ঘটে।

শুধু সুব্রত গুপ্ত নন, নির্বাচন কমিশনের অন্দরেও বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। ১২ আগস্ট নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু জানতে চেয়েছিলেন, কার অনুমতিতে এবং কে এই আবেদনগুলি করেছিলেন। অন্য নির্বাচন কমিশনার বিবেক যোশীও পুরো প্রক্রিয়া সম্পর্কে অবগত ছিলেন না বলে সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে। ফলে বিচারকদের সিদ্ধান্তের পরেও এত বিপুল সংখ্যক ভোটারের নাম নিয়ে কেন নতুন করে আপত্তি তোলা হল, তা নিয়ে প্রশ্ন আরও জোরালো হচ্ছে।

Hot this week

Topics

নাগপুরে বিজেপির শক্ত ঘাঁটিতে কংগ্রেসের জয়, আরএসএসের গড়ে হারতেই ফড়নবীশকে কটাক্ষ হাত শিবিরের

মহারাষ্ট্রে বিধান পরিষদের নির্বাচনে মাত্র একটি আসনে জিতেছে কংগ্রেস।...

Related Articles

Popular Categories