সিপিএম নেতা লাহেক আলির অন্তর্বর্তীকালীন জামিনের মেয়াদ আরও ৪ সপ্তাহ বাড়ালো কলকাতা হাইকোর্ট। লাহেক আলির বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠা উস্কানিমূলক বক্তব্যের ফুটেজ আজও আদালতে জমা করতে ব্যর্থ হল রাজ্য সরকার।
আইনজীবী সায়ন ব্যানার্জী বলেন, “এর আগের শুনানিতে আদালত রাজ্যের কাছে পেনড্রাইভ চেয়েছিল। কিন্তু রাজ্য সেই সময় তা দিতে পারেনি। রাজ্য সময় চেয়েছিল। লাহেক আলির মা ভেন্টিলেশনে থাকায় ৮ দিনের অন্তর্বর্তী জামিন দেওয়া হয়েছিল। যে বক্তব্যের জন্য গণপিটুনির ঘটনা ঘটেছিল, গাড়ি ভাঙচুর হয়েছিল সেই বক্তব্যের পেনড্রাইভ আজকেও আদালতে জমা করতে পারেনি রাজ্য সরকার। বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ তাই আরও ৪ সপ্তাহের জন্য এই জামিনের মেয়াদ বৃদ্ধি করেছেন”।
তিনি আরও বলেন, “এর থেকে স্পষ্ট, যে উস্কানিমূলক বক্তব্যের জন্য ৫০ দিন লাহেক আলিকে কাস্টডিতে রাখা হয়েছিল তা কেবল ষড়যন্ত্র। উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে লাহেক আলিকে ফাঁসানোর চেষ্টা হয়েছে তা দিনের আলোর মতো পরিষ্কার হয়ে গেছে”।
প্রসঙ্গত, গত জুলাই মাসে ঘটনার সূত্রপাত। বারুইপুর থানা এলাকার একটি নাবালিকাকে ধর্ষণের পর খুনের অভিযোগ ঘিরে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায়। ঘটনার প্রতিবাদে স্থানীয় বাসিন্দারা রাস্তায় নেমে আন্দোলন শুরু করেন। সেই বিক্ষোভে সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছিলেন সিপিএমের দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা কমিটির সদস্য লাহেক আলি। অভিযোগ, উত্তেজিত জনতা এক অটোচালককে ওই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত বলে সন্দেহ করে তাঁর উপর হামলা চালায়। মারধরের জেরে তাঁর মৃত্যু হয়। এরপর স্থানীয় একটি পুলিশ ফাঁড়িতেও হামলা চালানোর অভিযোগ ওঠে। পুলিশকর্মীদের সঙ্গে ধস্তাধস্তির পাশাপাশি পুলিশের গাড়িতেও ভাঙচুর করা হয়।
এই ঘটনার তদন্ত করতে গিয়ে লাহেক আলির নামও পুলিশের নজরে আসে। তাঁর বিরুদ্ধে অশান্তিতে জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠে। পরে গত ১২ জুলাই তাঁকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তারপর থেকে জেলেই ছিলেন তিনি। পরে হাইকোর্টের নির্দেশে ৮ দিনের অন্তর্বর্তী জামিন মঞ্জুর হয় লাহেক আলির। এবার মেয়াদ বাড়ায় কিছুটা স্বস্তিতে সিপিএম নেতা।


