দুর্গাপুজোয় বাঙালির খাদ্যাভ্যাস নিয়ে নতুন করে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। মধ্যপ্রদেশের ধর্মীয় বক্তা ধীরেন্দ্র শাস্ত্রী, যিনি বাগেশ্বর বাবা নামে পরিচিত, তাঁর একটি মন্তব্যকে ঘিরেই এই বিতর্কের সূত্রপাত। বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যে একাধিক বিজেপি নেতা নিজেদের অবস্থান জানিয়েছেন। এবার সেই তালিকায় নাম যোগ হল বিজেপির রাজ্য সম্পাদক লকেট চট্টোপাধ্যায়ের।
হুগলির পাণ্ডুয়ায় একটি কর্মসূচিতে গিয়ে লকেট বলেন, বাঙালি নিজের মতো করেই দুর্গাপুজো পালন করবে। পুজোর সময়ে মাছ-মাংস খাওয়ার যে রীতি বহু পরিবারে রয়েছে, তাতেও কোনও পরিবর্তন হবে না। তাঁর দাবি, বাগেশ্বর বাবার বক্তব্যের সঙ্গে বিজেপির রাজনৈতিক অবস্থানকে এক করে দেখা ঠিক নয়।
লকেটের কথায়, দুর্গাপুজো বাঙালির দীর্ঘদিনের সংস্কৃতি ও পারিবারিক পরম্পরার সঙ্গে জড়িত। সেই রীতিতে অষ্টমীর অঞ্জলি, ভোগ এবং নবমীর আমিষ খাবার—সবই রয়েছে। তাই বাইরের কোনও মন্তব্যের কারণে সেই অভ্যাস বদলে যাবে, এমন ভাবার কারণ নেই। তাঁর বক্তব্য, মানুষ নিজের পছন্দ ও পারিবারিক রীতি মেনেই খাবার খাবেন। সরকার সেখানে কোনও হস্তক্ষেপ করবে না।
এই বিতর্কের মধ্যে লকেট আরও বলেন, বিজেপি ক্ষমতায় এলে বাংলার মানুষকে নিরামিষ খাবারে বাধ্য করা হবে—বিরোধীদের এই প্রচার ঠিক নয়। তাঁর দাবি, দুর্গাপুজোয় সরকারি অনুদান নিয়েও যে নানা কথা বলা হচ্ছে, সেগুলিও বিভ্রান্তিকর। পুজো কমিটিগুলি অনুদান পাবে এবং বাঙালির খাদ্যাভ্যাসেও কোনও সরকারি নিয়ন্ত্রণ থাকবে না বলে তিনি জানান।
বাগেশ্বর বাবার মন্তব্য সামনে আসার পর বিজেপির অন্দরেও বিষয়টি নিয়ে একাধিক প্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছে। রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য শুরুতেই এই মন্তব্য নিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছিলেন। তিনি ইঙ্গিত দেন, বাংলার সংস্কৃতি নিয়ে কারও ব্যক্তিগত বক্তব্যকে দলের নীতির সঙ্গে মিলিয়ে দেখা উচিত নয়।
কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার এবং বিজেপি নেতাদের একাংশও একই বিষয়ে নিজেদের মত জানিয়েছেন। বিজেপি বিধায়ক সজল ঘোষ আরও কড়া ভাষায় বলেন, তাঁর বাবা তাঁকে যে শিক্ষা দিয়েছেন, তিনি সেই পথেই চলবেন। বাগেশ্বর বাবাকে নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে তিনি বলেন, তিনি বাংলার ‘বাবা’ নন। ফলে দুর্গাপুজোর আগে মাছ-মাংস খাওয়া নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্ক এখন রাজনৈতিক তরজার বিষয় হয়ে উঠেছে। তবে এই বিতর্ককে ঘিরে রাজনৈতিক আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণ আরও বাড়বে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

