ভোটের আগে দেশের রাজনীতিতে নতুন জল্পনা তৈরি করে আজ থেকে সংসদে শুরু হচ্ছে তিন দিনের বিশেষ অধিবেশন। এই অধিবেশনে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব আনা হতে পারে বলে জানা গেছে। তার মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে নির্বাচনী সীমানা পুনর্গঠন সংক্রান্ত বিল।
বর্তমানে লোকসভায় মোট আসন সংখ্যা ৫৪৩। কেন্দ্রের শাসক দল এই সংখ্যা অনেকটাই বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, আসন সংখ্যা বাড়িয়ে প্রায় ৮৫০ করা হতে পারে। এর মধ্যে অধিকাংশ সদস্য রাজ্যগুলো থেকে এবং বাকি সদস্য কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল থেকে নির্বাচিত হবেন। এই পরিবর্তন কার্যকর হলে দেশের বড় রাজ্যগুলির প্রভাব আরও বাড়তে পারে বলে মনে করছেন অনেকেই।
নতুন প্রস্তাবে জনসংখ্যার ভিত্তিতে নির্বাচনী এলাকার সীমা নতুন করে নির্ধারণ করার কথা বলা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে যে নিয়মে এই সীমা পরিবর্তন বন্ধ ছিল, তা এবার উঠে যেতে পারে। ফলে ভবিষ্যতে ভোটের মানচিত্রে বড়সড় বদল আসার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
এছাড়াও এই অধিবেশনে মহিলাদের জন্য সংরক্ষণ সংক্রান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ বিলও পেশ করা হতে পারে। এই বিল পাশ হলে রাজনীতি ও প্রশাসনে মহিলাদের অংশগ্রহণ আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা করার জন্য মোট ১৮ ঘণ্টা সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।
সংবিধানের নির্দিষ্ট নিয়ম অনুযায়ী, জনগণনার পর নির্বাচনী এলাকা পুনর্গঠন করার কথা। এই পুরো প্রক্রিয়া দেখভাল করে একটি বিশেষ কমিশন, যাকে রাষ্ট্রপতি নিয়োগ করেন। সাধারণত সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এই কমিশনের নেতৃত্ব দেন এবং নির্বাচন কমিশনের শীর্ষ আধিকারিকরাও এর সদস্য থাকেন। অতীতে পরিবার পরিকল্পনায় এগিয়ে থাকা রাজ্যগুলিকে বঞ্চিত না করতে আসন সংখ্যা নির্দিষ্ট করে রাখা হয়েছিল। সেই নিয়মের মেয়াদ ২০২৬ সাল পর্যন্ত। এরপর নতুন তথ্যের ভিত্তিতে পরিবর্তন আনা হতে পারে।
তবে এই সব প্রস্তাব পাশ করানো সরকারের জন্য সহজ হবে না বলেই মনে করা হচ্ছে। বিরোধীরা একজোট হলে সংসদের দুই কক্ষেই চ্যালেঞ্জ বাড়তে পারে। ফলে আগামী কয়েকদিন দেশের রাজনীতিতে উত্তেজনা আরও বাড়বে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।


