২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে বিরোধী শিবিরে অন্যতম বড় রাজনৈতিক ধাক্কা ছিল নীতীশ কুমারের এনডিএ-তে প্রত্যাবর্তন। সেই সিদ্ধান্তের নেপথ্যে কী কারণ ছিল, তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই জল্পনা চলছিল। এবার সেই প্রসঙ্গে বিস্ফোরক দাবি করলেন জনতা দল ইউনাইটেড (জেডিইউ)-এর কার্যকরী জাতীয় সভাপতি সঞ্জয় ঝা। তাঁর অভিযোগ, ইন্ডিয়া জোটের ভিত নষ্ট করেছিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং আম আদমি পার্টির প্রধান অরবিন্দ কেজরিওয়াল।
এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সঞ্জয় ঝা দাবি করেন, ২০২৩ সালে বিরোধী দলগুলির মধ্যে ইন্ডিয়া জোট গঠনের সময় অধিকাংশ বিষয়ে ঐকমত্য তৈরি হয়েছিল। এমনকি জোটের সাংগঠনিক কাঠামো নিয়েও একটি সমঝোতা হয়েছিল বলে তাঁর দাবি। সেই সমঝোতা অনুযায়ী, বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারকে জোটের ‘আহ্বায়ক’ করার বিষয়ে আলোচনা এগিয়েছিল এবং কংগ্রেসও তাতে সম্মত হয়েছিল বলে জানান তিনি।
সঞ্জয় ঝার কথায়, “আমি বলছি না যে নীতীশ কুমারকে প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী করা হবে। কিন্তু একটি সমঝোতা হয়েছিল যে তিনি জোটের আহ্বায়ক হবেন। শেষ মুহূর্তে এসে সেই সিদ্ধান্ত বদলে দেওয়া হয়।”
জেডিইউ নেতার দাবি, দিল্লি বা মুম্বইয়ে অনুষ্ঠিত বিরোধী জোটের এক বৈঠকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অরবিন্দ কেজরিওয়াল যৌথভাবে প্রস্তাব দেন যে জোটের আহ্বায়ক হিসেবে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের নাম বিবেচনা করা হোক। সেই প্রস্তাবের ফলে পূর্বনির্ধারিত সমঝোতা ভেঙে যায় এবং জোটের অভ্যন্তরে বিভ্রান্তি তৈরি হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
সঞ্জয় ঝার বক্তব্য, নীতীশ কুমার ব্যক্তিগতভাবে বিরোধী ঐক্য গড়ে তোলার জন্য দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ঘুরে নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করেছিলেন। তাঁর উদ্যোগেই ২০২৩ সালের ২৩ জুন পাটনায় বিরোধী জোটের প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল। বিজেপির বিরুদ্ধে যৌথ লড়াইয়ের লক্ষ্যে যখন অধিকাংশ দল একমত হয়েছিল, তখন নেতৃত্বের প্রশ্নে মতভেদ পরিস্থিতিকে জটিল করে তোলে বলে দাবি জেডিইউ নেতার।
তাঁর মতে, দিল্লিতে ইন্ডিয়া জোটের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের পর থেকেই বিরোধী জোট সম্পর্কে নীতীশ কুমারের মোহভঙ্গ শুরু হয়। পরবর্তী সময়ে তিনি উপলব্ধি করেন যে জোটের মধ্যে ঐক্যের অভাব রয়েছে এবং সেই কারণেই এনডিএ-তে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ২৮ জানুয়ারি বিহারের মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দেন নীতীশ কুমার। ভেঙে যায় মহাজোট সরকার। এরপর বিজেপির সমর্থনে নতুন সরকার গঠন করে ফের এনডিএ শিবিরে যোগ দেন তিনি। লোকসভা নির্বাচনের পর কেন্দ্রের তৃতীয় মোদি সরকার গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে জেডিইউ।
তবে সঞ্জয় ঝার এই দাবির বিষয়ে এখনও পর্যন্ত তৃণমূল কংগ্রেস, আম আদমি পার্টি বা কংগ্রেসের তরফে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া সামনে আসেনি। ফলে তাঁর বক্তব্যকে রাজনৈতিক মহলের একাংশ বিরোধী জোটের অতীত দ্বন্দ্ব নিয়ে নতুন বিতর্ক উসকে দেওয়ার চেষ্টা হিসেবেও দেখছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইন্ডিয়া জোটের অভ্যন্তরীণ সমন্বয়ের অভাব, বিভিন্ন রাজ্যে আসন সমঝোতা নিয়ে মতবিরোধ এবং নেতৃত্বের প্রশ্নে টানাপোড়েন ২০২৪ সালের নির্বাচনের আগে বিরোধী শিবিরকে দুর্বল করেছিল। সঞ্জয় ঝার সাম্প্রতিক মন্তব্য সেই বিতর্ককেই নতুন করে সামনে এনে দিল।


