বিজেপি শাসিত মহারাষ্ট্র সরকারের ২০২৬–২৭ অর্থবর্ষের বাজেট এবং সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক সমীক্ষা খতিয়ে দেখে সংখ্যালঘুদের শিক্ষা ও সামাজিক উন্নয়ন নিয়ে একাধিক গুরুতর অসামঞ্জস্যের অভিযোগ তুলেছে রাজনৈতিক পরামর্শদাতা সংস্থা ‘সেকুলার ল্যাব’। সংস্থার দাবি, উন্নয়নের বড় বড় ঘোষণা থাকলেও বাস্তবে সংখ্যালঘু, বিশেষ করে মুসলিম সম্প্রদায়ের জন্য প্রয়োজনীয় নীতিগত গুরুত্ব দেওয়া হয়নি।
সংস্থার প্রধান কামার ক্রান্তি জানান, ২০২৪–২৫ এবং ২০২৫–২৬ সালের অর্থনৈতিক সমীক্ষা ও ২০২৬–২৭ সালের বাজেট বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, শিক্ষা, কর্মসংস্থান এবং আঞ্চলিক উন্নয়নে সংখ্যালঘুদের চাহিদা যথেষ্ট গুরুত্ব পায়নি। বিশেষ করে উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে বড় ফারাক স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
সমীক্ষা অনুযায়ী, মহারাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষায় মোট ভর্তির হার (GER) গড়ে প্রায় ৩৪ শতাংশ। কিন্তু মুসলিম ছাত্রদের ক্ষেত্রে এই হার মাত্র ১২ শতাংশ। অর্থাৎ প্রায় ২২ শতাংশের ব্যবধান রয়েছে। সংস্থার মতে, এই ফারাক দীর্ঘদিন ধরে থাকলেও তা কমানোর জন্য বর্তমান বাজেটে কোনও স্পষ্ট পরিকল্পনা দেখা যায় না।
অন্যদিকে, উচ্চশিক্ষার খরচ ও আর্থিক সহায়তার মধ্যে ভারসাম্যহীনতাও সামনে এসেছে। ইঞ্জিনিয়ারিংসহ পেশাগত কোর্সে বার্ষিক ফি প্রায় ১ লক্ষ টাকায় পৌঁছেছে, কিন্তু সংখ্যালঘু স্কলারশিপের সর্বোচ্চ সীমা প্রায় ২৫ হাজার টাকাতেই সীমাবদ্ধ। অনেক ক্ষেত্রে সরকার ফি রিমবার্সমেন্ট ও স্কলারশিপ একসঙ্গে দেখায়, ফলে প্রকৃত আর্থিক সহায়তা নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়। রিমবার্সমেন্টের টাকা সরাসরি কলেজে দেওয়া হয়, ছাত্রদের হাতে আসে না। এতে দরিদ্র পরিবারের পড়ুয়ারা বই, থাকা-খাওয়ার খরচ মেটাতে সমস্যায় পড়ে।
গবেষণা ও প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতির ক্ষেত্রেও বৈষম্যের অভিযোগ উঠেছে। অন্যান্য সম্প্রদায়ের জন্য সারথি, বার্টি বা মহাজ্যোতির মতো সংস্থাগুলির বড় বাজেট থাকলেও, মৌলানা আজাদ গবেষণা ও প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানকে পর্যাপ্ত অর্থ বা স্বশাসন দেওয়া হয়নি বলে দাবি সেকুলার ল্যাবের।
সংখ্যালঘু ছাত্রাবাস নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। ২০২২–২৩ সালে ২৫টি হোস্টেল তৈরির ঘোষণা হলেও ২০২৬ সাল পর্যন্ত মাত্র ৭টি চালু হয়েছে। এছাড়া আর্থিক সমস্যার কারণে দ্বাদশ শ্রেণির পর প্রায় ৪৫ শতাংশ সংখ্যালঘু ছাত্র পড়াশোনা ছেড়ে দেয় বলেও সমীক্ষায় উঠে এসেছে। পরিকাঠামোর অভাবও বড় সমস্যা। রাজ্যের ৪৫টি সংখ্যালঘু অধ্যুষিত ব্লকের মধ্যে প্রায় ৩০টিতেই কোনও সরকারি ডিগ্রি কলেজ নেই। ফলে গ্রামীণ এলাকার পড়ুয়ারা উচ্চশিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
উন্নয়ন খরচের ক্ষেত্রেও অসামঞ্জস্য দেখা গেছে। সংখ্যালঘু এলাকায় বরাদ্দ থাকলেও বাস্তবে খরচ কম হচ্ছে বলে অভিযোগ। একইভাবে সংখ্যালঘু মেয়েদের হোস্টেলের খরচও কমে গেছে। প্রায় ৭.৬৯ লক্ষ কোটি টাকার বাজেটে সংখ্যালঘু উন্নয়ন দফতরের জন্য বরাদ্দ মাত্র ৮৪৪ কোটি টাকা, যা মোট বাজেটের অর্ধ শতাংশেরও কম। এই পরিস্থিতিতে সংস্থার দাবি, সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে আরও সুসংগঠিত ও ভারসাম্যপূর্ণ নীতি প্রয়োজন।


