করোনার পর ঠিক এমন ছবিই দেশে দেখা গিয়েছিলো কিন্তু সেই সময় তো পেরিয়ে গেছে অনেক আগেই। তা সত্ত্বেও মালদার সাহাপুরের একটি সরকারি স্কুলে এখনও ক্লাস এইটের পড়ুয়াদের ‘অ-আ-ক-খ’ শেখাতে হচ্ছে শিক্ষকদের এই স্কুলের শিক্ষকদের অভিযোগ, পড়ুয়ারা নিয়মিত স্কুলে আসে না। খাতায়-কলমে ক্লাস এইটে ছাত্রসংখ্যা ৩০ হলেও, হাজিরা মাত্র ৪-৫ জনের। শুধু ক্লাস এইট নয়, নিচু ক্লাসের চিত্রও একই। অনেকেই নিজের নামটুকু পর্যন্ত লিখতে পারে না।

শিক্ষকদের কথায়, ‘‘লকডাউনের সময় পড়াশোনার ক্ষতি হয়েছিল ঠিকই। কিন্তু এখন তো সব স্বাভাবিক। তার পরেও যদি ক্লাস এইটে বর্ণপরিচয় করাতে হয়, তা হলে বুঝতে হবে শিক্ষাব্যবস্থায় বড়সড় গলদ আছে।’’ তারা আরও বলেন, ‘‘স্কুলে কোনও পাশ-ফেল নেই। ফলে ছাত্রছাত্রীরা পড়াশোনা নিয়ে মোটেও চিন্তিত নয়। তার উপর শিক্ষকসংখ্যাও কম। পাঁচজন শিক্ষক দিয়ে পুরো স্কুল চালানো হচ্ছে। ক্লাস নেওয়া থেকে ঘণ্টা বাজানো—সব কাজ আমাদেরই করতে হয়।’’
এ পরিস্থিতি শুধু সাহাপুরেই নয়, সারা রাজ্যেই এক রকম। কেন্দ্রীয় সরকারের সাম্প্রতিক রিপোর্ট বলছে, ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষে পশ্চিমবঙ্গে ৩ হাজারের বেশি স্কুলে একটিও ছাত্র ভর্তি হয়নি। প্রায় ৬ হাজার ৩৬৬টি স্কুল চলছে মাত্র একজন শিক্ষককে নিয়ে।


