Wednesday, July 22, 2026
26.1 C
Kolkata

কংগ্রেস ও ডিএমকে-র সাথে নির্বাচন কমিশনের আঁতাত—‘গোপন সেটিং’ নিয়ে INDIA-র শরিকদের নিশানা মমতার

পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে ফের নতুন করে বিতর্কের আগুন জ্বালালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নির্বাচনকে ঘিরে প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিয়ে তিনি আবারও প্রশ্ন তুললেন নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে। তবে এবার তাঁর অভিযোগের পরিধি আরও বড়—শুধু বিজেপি নয়, বিরোধী জোটের কিছু শরিক দলকেও ইঙ্গিত করে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন তিনি।

সোমবার নদিয়ার এক জনসভা থেকে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মমতা বলেন, কমিশনের সিদ্ধান্তগুলি একেবারেই নিরপেক্ষ বলে মনে হচ্ছে না। তাঁর দাবি, যেভাবে পশ্চিমবঙ্গ থেকে একের পর এক শীর্ষ প্রশাসনিক আধিকারিকদের সরিয়ে অন্যত্র পাঠানো হচ্ছে, তা নজিরবিহীন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই তিনি প্রশ্ন তোলেন—এর পিছনে কোনও গোপন সমঝোতা কাজ করছে কি না।

এই প্রসঙ্গে তিনি সরাসরি নাম নেন এম কে স্ট্যালিন M. K.-এর। পাশাপাশি কংগ্রেসকেও আক্রমণের নিশানায় রাখেন। মমতার কথায়, যেহেতু বহু আধিকারিককে তামিলনাড়ুতে পাঠানো হয়েছে, তাই এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সন্দেহ তৈরি হওয়া স্বাভাবিক। তাঁর অভিযোগ, এর মধ্যে কোনও অভ্যন্তরীণ সমঝোতা থাকতে পারে, যা সাধারণ মানুষের সামনে স্পষ্ট নয়।

যদিও রাজনৈতিক মহলের একাংশ এই বক্তব্যকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে। কারণ, অতীতে বিজেপি-বিরোধী মঞ্চে মমতা ও স্ট্যালিনকে একসঙ্গে দেখা গিয়েছে বহুবার। এমনকি বিরোধী জোটের নেতৃত্ব নিয়েও তাঁদের নাম আলোচনায় এসেছে। সেই প্রেক্ষাপটে হঠাৎ করেই এই ধরনের মন্তব্য অনেককেই বিস্মিত করেছে।

এর পাশাপাশি, প্রশাসনিক রদবদল নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, শুধুমাত্র পশ্চিমবঙ্গ থেকেই বিপুল সংখ্যক আইএএস ও আইপিএস অফিসারকে সরানো হয়েছে। অন্য রাজ্যগুলিতে যেখানে খুব কম সংখ্যক আধিকারিক বদলি হয়েছে, সেখানে বাংলার ক্ষেত্রে এই সংখ্যা অনেক বেশি। মমতার দাবি, মোট কয়েকশো অফিসারকে দায়িত্ব থেকে সরানো হয়েছে, যার মধ্যে অধিকাংশই এই রাজ্যের।

তিনি আরও বলেন, এই সিদ্ধান্তে রাজ্যের প্রশাসনিক কাজকর্মে প্রভাব পড়ছে। অভিজ্ঞ অফিসারদের হঠাৎ করে সরিয়ে দিলে নির্বাচন পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়তে পারে বলেও তাঁর আশঙ্কা। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, বাইরে থেকে লোক এনে ভোটের কাজে লাগানোর চেষ্টা হতে পারে, যা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার পক্ষে ঠিক নয়।

কলকাতা পুলিশের প্রাক্তন কমিশনার সুপ্রতিম সরকারের বদলির ঘটনাও তিনি তুলে ধরেন। ব্যক্তিগত পরিস্থিতি বিবেচনা না করেই এই ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন মুখ্যমন্ত্রী। আসন্ন নির্বাচনকে ঘিরে প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিয়ে রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সংস্থার মধ্যে টানাপোড়েন আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে। মমতার এই অভিযোগ কতটা বাস্তব, আর কতটা রাজনৈতিক কৌশল—তা নিয়েই এখন জোর আলোচনা চলছে রাজনৈতিক মহলে।

Hot this week

‘ক্ষমা চাও’ – ২১ জুলাইয়ের মঞ্চ থেকে অভিষেককে সময় বেঁধে দিলেন মদন

২১ জুলাইয়ের সভার দিন ফের অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে তৃণমূলের...

অফিসের বাথরুমে ঝুলন্ত দেহ, ত্রিপুরার ডিজিপির মৃত্যু ঘিরে বাড়ছে ধোঁয়াশা

ত্রিপুরার পুলিশ মহলে শোকের ছায়া। সোমবার আগরতলায় পুলিশ সদর...

Topics

‘ক্ষমা চাও’ – ২১ জুলাইয়ের মঞ্চ থেকে অভিষেককে সময় বেঁধে দিলেন মদন

২১ জুলাইয়ের সভার দিন ফের অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে তৃণমূলের...

অফিসের বাথরুমে ঝুলন্ত দেহ, ত্রিপুরার ডিজিপির মৃত্যু ঘিরে বাড়ছে ধোঁয়াশা

ত্রিপুরার পুলিশ মহলে শোকের ছায়া। সোমবার আগরতলায় পুলিশ সদর...

‘ঘোর পাপ হয়েছে’—দু’মাস পর নিট প্রশ্নফাঁস নিয়ে মুখ খুললেন মোদি

নিট-ইউজি পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস নিয়ে দেশজুড়ে ক্ষোভের ঝড় উঠেছে। অনেক...

দশ বছরে সংঘ-ঘনিষ্ঠ ২০ সংস্থাকে ৬৬৮ কোটির বেশি অনুদান! ওএনজিসির সিএসআর তহবিল নিয়ে বিতর্ক

রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (RSS)-এর সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন সংস্থাকে সরকারি...

Related Articles

Popular Categories