মণিপুরে আবারও অশান্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এন বীরেন সিংয়ের সরকার পদত্যাগ করার পর দীর্ঘ সময় রাষ্ট্রপতি শাসন চলেছিল। তার পরে নতুন করে নির্বাচন না হলেও বিজেপি আবার রাজ্যে সরকার গঠন করে। কিন্তু সেই সরকার গঠনের পর থেকেই পরিস্থিতি ধীরে ধীরে খারাপের দিকে যেতে শুরু করেছে।
চলতি মাসের শুরুতে এক বিএসএফ জওয়ানের বাড়িতে ভয়াবহ হামলার ঘটনা ঘটে। সেই ঘটনায় দুই শিশুর মৃত্যু হয়, যা সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ তৈরি করেছে। এরপর থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় প্রায় প্রতিদিনই বন্ধ, মিছিল ও প্রতিবাদ দেখা যাচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে মেইতেই সম্প্রদায়ের একটি প্রভাবশালী সংগঠন, কোকোমি, বিজেপির বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নিয়েছে। তারা রাজ্যে বিজেপির সব ধরনের কর্মসূচি বর্জনের আহ্বান জানিয়েছে। সংগঠনের দাবি, সরকার সাধারণ মানুষকে সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ হয়েছে। তারা মুখ্যমন্ত্রী জুমনাম খেমচাঁদ সিংয়ের কাছেও স্পষ্ট ব্যাখ্যা চেয়েছে।
কোকোমির এক সদস্য জানিয়েছেন, বর্তমান সরকার জনগণের আস্থা হারিয়েছে এবং নিরীহ মানুষকে রক্ষা করতে পারছে না। তাদের অভিযোগ, রাজ্যে এক ধরনের গোপন সংঘাত চলছে, কিন্তু কেন্দ্রীয় সরকার এই বিষয়ে কোনও কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি।
অন্যদিকে, দুই নাগা ব্যক্তির মৃত্যুর প্রতিবাদে ইউনাইটেড নাগা কাউন্সিল তিন দিনের বন্ধ ডেকেছে। ২০ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া এই বন্ধ নাগা অধ্যুষিত এলাকায় বড় প্রভাব ফেলেছে।
বিষ্ণুপুরে হামলার ঘটনার পর সাধারণ মানুষের ক্ষোভ আরও বেড়েছে। বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। ৮ এপ্রিল এক প্রতিবাদ কর্মসূচির সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে নিরাপত্তা বাহিনী গুলি চালায়, এতে তিনজনের মৃত্যু হয় এবং অনেকেই আহত হন। পরে আরও কিছু জায়গায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ইম্ফল শহরেও পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনী পরিস্থিতি সামাল দিতে কাঁদানে গ্যাস ও ধোঁয়া বোমা ব্যবহার করে। মেইতেই মহিলা সংগঠন ও অন্যান্য নাগরিক গোষ্ঠীর ডাকা পাঁচ দিনের বন্ধে জনজীবন প্রায় থমকে গেছে।


