উত্তরপ্রদেশের মীরাটে মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সম্পর্কে বিতর্কিত মন্তব্য করার অভিযোগে এক বৃদ্ধ মুসলিম ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ঘটনাটি ঘিরে রাজ্যজুড়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। পাশাপাশি আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে সমতা বজায় রাখা হচ্ছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মীরাটের বাসিন্দা এহসান নামে ওই ব্যক্তি সম্প্রতি একটি স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে সাক্ষাৎকার দেন। বকরিদ উপলক্ষে নেওয়া ওই সাক্ষাৎকারে তিনি উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী ও দেশের প্রধানমন্ত্রী সম্পর্কে আপত্তিকর মন্তব্য করেন বলে অভিযোগ। কথোপকথনের সময় তিনি যোগী আদিত্যনাথকে নিয়ে কড়া ভাষা ব্যবহার করেন। পরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ সম্পর্কেও তীব্র সমালোচনা করেন।
সাক্ষাৎকার চলাকালীন ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়ার প্রসঙ্গ উঠলে এহসান আপত্তি জানান। তিনি ধর্মীয় বিশ্বাসের প্রসঙ্গ তুলে নিজের মত প্রকাশ করেন। সাক্ষাৎকারের ভিডিওটি পরে সামাজিক মাধম্যে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পরই বিষয়টি পুলিশের নজরে আসে।
মীরাট পুলিশ জানায়, সাংবিধানিক পদে থাকা ব্যক্তিদের সম্পর্কে অশালীন ও উসকানিমূলক মন্তব্য করার অভিযোগে এহসানের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগ নথিভুক্ত হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তাঁকে আটক করা হয়। পরে পুলিশের পক্ষ থেকে একটি ভিডিও প্রকাশ করা হয়, যেখানে দেখা যায় দুই পুলিশকর্মী তাঁকে নিয়ে যাচ্ছেন। ভিডিওটি নিয়েও নানা মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।
তবে একই দিনে ঘটে যাওয়া আরেকটি ঘটনার কারণে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ, পুনীত নামে এক হিন্দু যুবক নিজের বাড়ির বাইরে মাংস ভর্তি একটি ব্যাগ রেখে তা নিয়ে মিথ্যা অভিযোগ করেছিলেন। পরে সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে পুলিশ জানতে পারে, ঘটনাটি সাজানো ছিল। কিন্তু সেই ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে কোনো মামলা করা হয়নি বলে জানা গেছে। কেবল সতর্ক করে ছেড়ে দেওয়া হয়।
দুটি ঘটনার মধ্যে পুলিশের পদক্ষেপে পার্থক্য দেখা যাওয়ায় সামাজিক ও রাজনৈতিক মহলে বিতর্ক শুরু হয়েছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, একই ধরনের উসকানিমূলক বা বিভ্রান্তিকর কাজের ক্ষেত্রে আইনের প্রয়োগ কি সবার জন্য সমান হচ্ছে? অন্যদিকে, কেউ কেউ বলছেন, জনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রশাসন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছে।
ঘটনাটি মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, সামাজিক সম্প্রীতি এবং আইন প্রয়োগে নিরপেক্ষতার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলিকে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে। বিভিন্ন মহল থেকে এ বিষয়ে স্বচ্ছ ও সমান আইনি পদক্ষেপের দাবি উঠছে।


