লোকসভায় বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিদেশনীতি নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেন। তাঁর অভিযোগ, দেশের বিদেশনীতি এখন ব্যক্তিনির্ভর হয়ে পড়েছে এবং তা আন্তর্জাতিক মহলে হাসির খোরাক হয়ে দাঁড়িয়েছে। একইসঙ্গে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়গেও কেন্দ্র সরকারের নীতিকে প্রশ্নের মুখে তোলেন।
সম্প্রতি পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী সংসদে বক্তব্য রাখেন এবং বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করতে সর্বদলীয় বৈঠক ডাকা হয়। এই প্রেক্ষিতেই বিরোধীদের তরফে একাধিক প্রশ্ন উঠে আসে। সংসদ ভবনে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রাহুল গান্ধী বলেন, দেশের বিদেশনীতি এখন শুধুমাত্র প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তে পরিচালিত হচ্ছে।
রাহুল গান্ধী আরও বলেন, যদি প্রধানমন্ত্রীর অবস্থান দুর্বল হয়, তবে দেশের বিদেশনীতিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাঁর মতে, পূর্বে প্রধানমন্ত্রীর সংসদীয় বক্তব্যে কোনও স্পষ্ট দিশা পাওয়া যায়নি। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, পশ্চিম এশিয়ার চলমান উত্তেজনার প্রভাব পড়তে পারে গ্যাস, পেট্রোল এবং সার সরবরাহে।
প্রধানমন্ত্রী যে এই পরিস্থিতির সঙ্গে কোভিড সময়ের তুলনা করেছেন, তা নিয়েও আপত্তি জানান রাহুল। তাঁর মতে, সেই সময় দেশের মানুষ যে কষ্টের মধ্যে দিয়ে গিয়েছেন, তা ভুলে যাওয়া ঠিক নয়। তিনি জানান, নির্ধারিত কর্মসূচির জন্য তিনি সর্বদলীয় বৈঠকে থাকতে পারবেন না, তবে আলোচনার গুরুত্ব অস্বীকার করছেন না।
একইসঙ্গে তিনি আরও গুরুতর অভিযোগ তোলেন। তাঁর দাবি, আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ভারত নিজের স্বাধীন অবস্থান ধরে রাখতে পারছে না এবং ভবিষ্যতে বড় শক্তিগুলির প্রভাবেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।
অন্যদিকে, মল্লিকার্জুন খাড়গে রাজ্যসভায় প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের সমালোচনা করে বলেন, পরিষ্কার উত্তর দেওয়ার বদলে বিষয়টি ঘোলাটে করে দিয়েছে। তিনি তিনটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তোলেন। প্রথমত, তিনি জানতে চান, ভারতের দীর্ঘদিনের কৌশলগত স্বাধীনতা কি এখন পরিবর্তিত হয়েছে? তাঁর বক্তব্য, সাম্প্রতিক কূটনৈতিক পদক্ষেপের ফলে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ভারতের অবস্থানে পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। এ বিষয়ে সংসদ বা দেশের মানুষকে কেন আগে থেকে কিছু জানানো হল না, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।
দ্বিতীয়ত, তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন হরমুজ প্রণালীতে আটকে থাকা ভারতীয় জাহাজ নিয়ে। তাঁর দাবি, প্রায় ৪০টি ভারতীয় জাহাজ, যাতে প্রায় ১১০০ জন নাবিক রয়েছেন এবং বিপুল মূল্যের পণ্য রয়েছে, এখনও সমস্যার মুখে পড়ে আছে। অন্য দেশগুলি যেখানে নিজেদের জাহাজ নিরাপদে সরিয়ে নিতে পেরেছে, সেখানে ভারত কেন পিছিয়ে, তা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে।
তৃতীয়ত, জ্বালানি আমদানি নিয়ে সরকারের দাবিও খতিয়ে দেখতে বলেন খাড়গে। তাঁর মতে, বিভিন্ন দেশ থেকে জ্বালানি আনার কথা বলা হলেও বাস্তবে ঘাটতি, দাম বৃদ্ধি এবং কালোবাজারি কেন বাড়ছে, তার স্পষ্ট ব্যাখ্যা দরকার। খাড়গে সতর্ক করে বলেন, সংঘাত শুরুর কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই দেশে জ্বালানি সংকটের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। এর প্রভাব পড়তে পারে খাদ্য সরবরাহ, সার উৎপাদন, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প এবং মূল্যবৃদ্ধির উপর।
পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি নিয়ে কেন্দ্রের ভূমিকা ও সিদ্ধান্ত এখন রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে উঠে এসেছে। বিরোধীদের অভিযোগ, সঠিক পরিকল্পনা ও স্পষ্ট নীতির অভাবে ভবিষ্যতে সাধারণ মানুষকে আরও বড় সমস্যার মুখে পড়তে হতে পারে।


