বিধানসভা নির্বাচনের আগে ধর্মীয় আবহকে সামনে রেখে নতুন করে রাজনৈতিক বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করল তৃণমূল কংগ্রেস, এমনটাই মনে করছেন সাধারণ মানুষ। বীরভূমের তারাপীঠ মন্দিরে পুজো দিতে গিয়ে শাসকদলের তিন প্রার্থীর উপস্থিতি ঘিরে শুরু হয়েছে জোর বিতর্ক। সোমবার সকালে হাসন কেন্দ্রের প্রার্থী কাজল শেখ, নানুরের বিধানচন্দ্র মাঝি এবং দুবরাজপুরের নরেশচন্দ্র বাউরি একসঙ্গে মন্দিরে পৌঁছন। হাতে পুজোর সামগ্রী নিয়ে তাঁরা নিয়ম মেনে দেবীর আরাধনা করেন। মন্দির চত্বরে তাঁদের উপস্থিতি ঘিরে কৌতূহল যেমন ছিল, তেমনই রাজনৈতিক মহলে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্নও।প্রার্থীদের বক্তব্যে উঠে আসে শান্তি, সম্প্রীতি এবং নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশের কামনা। কাজল শেখ দাবি করেন, বাংলায় বিভাজনের রাজনীতি যেন জায়গা না পায় এবং মানুষ একসঙ্গে মিলেমিশে থাকুক। পাশাপাশি তিনি রাজ্যের উন্নয়নমূলক কাজের প্রসঙ্গ টেনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর নেতৃত্বের প্রশংসা করেন এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়-এর সুস্থতা কামনা করেন। তবে বিরোধীদের মতে, এই পুজো নিছক আধ্যাত্মিক নয়, বরং নির্বাচনের আগে হিন্দু ভোটারদের প্রভাবিত করার একটি পরিকল্পিত পদক্ষেপ। তাঁদের অভিযোগ, রাজ্যে দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনিক ব্যর্থতা, কর্মসংস্থানের অভাব এবং আইনশৃঙ্খলার প্রশ্নে যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে, তা থেকে নজর ঘোরাতেই ধর্মীয় আবেগকে সামনে আনা হচ্ছে।স্থানীয়দের একাংশও এই ঘটনাকে ভিন্নভাবে দেখছেন। তাঁদের মতে, ভোটের সময় নেতাদের এমন সক্রিয়তা চোখে পড়লেও বছরের বাকি সময় সাধারণ মানুষের সমস্যার প্রতি সেই মনোযোগ দেখা যায় না। ফলে হঠাৎ করে মন্দিরে গিয়ে পুজো দেওয়াকে অনেকেই লোক দেখানো বলেই মনে করছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তারাপীঠের মতো গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় স্থানে উপস্থিতি শাসকদলের পক্ষে প্রতীকী গুরুত্ব বহন করে। এর মাধ্যমে একদিকে যেমন ধর্মীয় অনুভূতিকে স্পর্শ করার চেষ্টা, তেমনই দলের অভ্যন্তরীণ ঐক্যের বার্তাও দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু এই কৌশল কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে। সব মিলিয়ে, নির্বাচনের প্রাক্কালে এই পুজো কর্মসূচি তৃণমূলের রাজনৈতিক পরিকল্পনার অংশ বলেই মনে করা হচ্ছে। তবে বিরোধীদের দাবি, বাস্তব সমস্যার সমাধান না করে শুধুমাত্র প্রতীকী পদক্ষেপে সাধারণ মানুষের আস্থা ফেরানো সম্ভব নয়।
Popular Categories


