এসআইআর প্রক্রিয়া ও বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে তীব্র আক্রমণ শানালেন সিপিআই(এম)-এর রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম। শনিবার মালদায় এক জনসভা থেকে তিনি বলেন, আরএসএসের আদর্শ মেনে এই এসআইআর চালু করা হয়েছে, যা সংবিধানের মূল ভাবনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তার বক্তব্য, ডঃ বি আর আম্বেদকরের তৈরি সংবিধানকে উপেক্ষা করেই এই ব্যবস্থা কার্যকর করা হচ্ছে এবং এর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো জরুরি।
বিধানসভা নির্বাচনে বামপন্থীদের জয়ী করার আহ্বান জানিয়ে সেলিম বলেন, রাজ্যে প্রকৃত অর্থে আইনের শাসন নেই। তৃণমূল সরকারের আমলে প্রশাসন দলদাসে পরিণত হয়েছে বলে তার অভিযোগ। তিনি দাবি করেন, যারা বাংলার স্বার্থ রক্ষা করতে চান, তাদের সবাইকে একজোট হয়ে বিজেপি ও তৃণমূল—দু’পক্ষের বিরুদ্ধেই লড়াই করতে হবে।
উল্লেখ্য, এই সভা হওয়ার কথা ছিল মালদা শহরের বৃন্দাবনী ময়দানে। কিন্তু প্রশাসনের পক্ষ থেকে অনুমতি না মেলায় সভাস্থল বদলে রথবাড়ি এলাকায় বিশাল জমায়েত হয়। মানুষের ঢল নামায় জাতীয় সড়ক ও ফ্লাইওভার পর্যন্ত ভরে যায়। ফলে শহরের একাধিক অংশ কার্যত স্তব্ধ হয়ে পড়ে।
সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে সেলিম বলেন, আরএসএস ধর্মভিত্তিক রাষ্ট্র গড়তে চাইছে। সেই পথে এগোলে সংখ্যালঘু, মহিলা, আদিবাসী ও প্রান্তিক মানুষের অধিকার ক্ষুণ্ণ হবে। তিনি অভিযোগ করেন, সরাসরি এনআরসি চালু করা সম্ভব না হওয়ায় ঘুরপথে এসআইআর আনা হয়েছে। নথির বানান ভুল বা ঠিকানা সংক্রান্ত অজুহাতে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করা হচ্ছে বলেও তিনি দাবি করেন।
তিনি আরও বলেন, রাজ্যে দুর্নীতির টাকাপয়সা বিভিন্ন পথে ঘুরে শাসক দলের শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে পৌঁছয়। কিন্তু কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলি সঠিক পদক্ষেপ নিচ্ছে না বলেও তার অভিযোগ। পাশাপাশি মুর্শিদাবাদের সাম্প্রতিক অশান্তির প্রসঙ্গ টেনে রাজ্য সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।
এদিকে সভায় বক্তব্য রাখেন সিপিআই(এম) নেত্রী মীনাক্ষী মুখার্জিও। তিনি বলেন, মাইক্রোফিনান্স ঋণের চাপে সাধারণ মানুষ বিপর্যস্ত। প্রশাসন শাসক দলের স্বার্থে কাজ করছে এবং গণতান্ত্রিক অধিকার খর্ব করা হচ্ছে। বিজেপি শাসিত রাজ্যে পরিযায়ী শ্রমিকদের উপর নিপীড়নের প্রসঙ্গ তুলে তিনি কেন্দ্রকেও কাঠগড়ায় দাঁড় করান। এই সভায় আরও বক্তব্য রাখেন শতরূপ ঘোষ ও জামিল ফিরদৌস।


