Wednesday, September 23, 2026
27 C
Kolkata

সরকারি প্রকল্পের সুবিধাপ্রাপ্ত এলাকায় জমি মোহন যাদবের পরিবারের! মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ

মধ্যপ্রদেশের উজ্জয়িনীতে ব্যাপক অবকাঠামো উন্নয়নের পরিকল্পনাকে ঘিরে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। শহরে একের পর এক নতুন রাস্তা, মহাসড়ক এবং আবাসিক ও বাণিজ্যিক প্রকল্প গড়ে তোলার উদ্যোগের মধ্যে মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদবের পরিবারের বিপুল পরিমাণ জমি কেনাবেচার তথ্য সামনে এসেছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস সংবাদমাধ্যমের অনুসন্ধানে দাবি করা হয়েছে, ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে মোহন যাদব মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর থেকে ২০২৫ সালের শেষ পর্যন্ত তাঁর পরিবারের সদস্য এবং তাদের সঙ্গে যুক্ত রিয়েল এস্টেট সংস্থাগুলি উজ্জয়িনী ও তার আশপাশে অন্তত ১৩৭টি জমি কিনেছে। মোট জমির পরিমাণ প্রায় ১৬৮ একর। এসব জমি কেনার জন্য খরচ হয়েছে প্রায় ৪৫ কোটি টাকা।

জমির নথি অনুযায়ী, এই ক্রয়ের সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর স্ত্রী সীমা যাদব, ভাই, ভাইয়ের স্ত্রী, আত্মীয়স্বজন এবং পরিবারের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন নির্মাণ সংস্থার নাম জড়িত রয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, অধিকাংশ জমিই এমন এলাকায় কেনা হয়েছে যেখানে পরবর্তীতে নতুন রাস্তা, হাইওয়ে বা নগর উন্নয়ন প্রকল্পের ঘোষণা হয়েছে। ফলে ভবিষ্যতে ওই জমির মূল্য অনেক বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

উজ্জয়িনী মাস্টার প্ল্যান ২০৩৫ অনুযায়ী শহরের বেশ কিছু কৃষিজমিকে আবাসিক ও বাণিজ্যিক ব্যবহারের জন্য চিহ্নিত করা হয়েছে। অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, যাদব পরিবারের কেনা বহু জমি এই পরিবর্তিত জমি ব্যবহারের এলাকার মধ্যেই পড়ে। এর ফলে জমিগুলির বাণিজ্যিক গুরুত্ব এবং বাজারদর উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে।

বিরোধী দল কংগ্রেসের নেতারা অভিযোগ করেছেন, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত এবং জমি কেনাবেচার মধ্যে সম্ভাব্য স্বার্থের সংঘাত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা উচিত। যদিও এই অভিযোগের পক্ষে সরাসরি কোনও প্রমাণ প্রকাশ্যে আসেনি।

অন্যদিকে রাজ্য সরকারের একাধিক আধিকারিক এই বিতর্ককে গুরুত্ব দিতে নারাজ। তাঁদের বক্তব্য, মুখ্যমন্ত্রীর আত্মীয়রা বহু বছর ধরেই রিয়েল এস্টেট ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। তাই তাঁদের জমি কেনাবেচাকে মুখ্যমন্ত্রীর রাজনৈতিক পদ বা প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত করা ঠিক হবে না।

যাদব পরিবারের পক্ষ থেকেও একই দাবি করা হয়েছে। পরিবারের সদস্যদের বক্তব্য, তাঁরা আইন মেনেই জমি কিনেছেন এবং ব্যবসায়িক প্রয়োজনে জমি উন্নয়ন বা বিক্রি করার পূর্ণ অধিকার তাঁদের রয়েছে। শুধু পরিবারের একজন সদস্য মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার কারণে তাঁদের ব্যবসা বন্ধ করে দেওয়া যায় না বলেও মত তাঁদের।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, পরিবারের কয়েকজন সদস্য ইতিমধ্যেই কেনা জমিতে আবাসন প্রকল্প শুরু করেছেন। কিছু জমি আবার বেসরকারি নির্মাণ সংস্থার সঙ্গে যৌথভাবে উন্নয়নের জন্য হস্তান্তর করা হয়েছে। এর মধ্যে নতুন হাউজিং প্রকল্পও রয়েছে।

তবে এই গোটা ঘটনায় মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদব বা তাঁর দফতর এখনও পর্যন্ত প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য করেনি। ফলে উজ্জয়িনীর জমি কেনাবেচা, নগর উন্নয়ন পরিকল্পনা এবং রাজনৈতিক প্রভাব— এই তিনটি বিষয়কে ঘিরে বিতর্ক ক্রমেই বাড়ছে। আগামী দিনে এই ইস্যু মধ্যপ্রদেশের রাজনীতিতে আরও বড় আলোচনার বিষয় হয়ে উঠতে পারে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

Hot this week

LIC-এর ২,৬৮৪ কোটি টাকা নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ, অনিল আম্বানির বিরুদ্ধে দায়ের হল এফআইআর

ভারতীয় জীবন বিমা নিগম বা LIC-এর বিনিয়োগ ঘিরে আর্থিক...

রামমন্দিরে প্রণামি চুরির ১০৫ কাণ্ড! সিসিটিভি ফুটেজে ধরা পড়ল চাঞ্চল্যকর তথ্য

অযোধ্যার রামমন্দিরে ভক্তদের দেওয়া প্রণামির সামগ্রী চুরির ঘটনায় তদন্ত...

Topics

রামমন্দিরে প্রণামি চুরির ১০৫ কাণ্ড! সিসিটিভি ফুটেজে ধরা পড়ল চাঞ্চল্যকর তথ্য

অযোধ্যার রামমন্দিরে ভক্তদের দেওয়া প্রণামির সামগ্রী চুরির ঘটনায় তদন্ত...

Related Articles

Popular Categories