মধ্যপ্রদেশের বুরহানপুর জেলার দেওহারি গ্রামের সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এক মুসলিম শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। শনিবার, ২৫ অক্টোবর ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে। অভিযোগ, ওই শিক্ষক জবূর আহমেদ তাড়ভি হিন্দু ছাত্রদের ইসলামিক নামাজের ভঙ্গিতে যোগব্যায়াম করতে বাধ্য করেছিলেন।
বিদ্যালয়ের কয়েকজন অভিভাবক জানান, যোগব্যায়ামের সময় তিনি ছাত্রদের এমন কিছু ভঙ্গি শেখাচ্ছিলেন যা নামাজের মতো দেখায়। এই অভিযোগের ভিত্তিতে দ্রুত তদন্ত শুরু করে জেলা শিক্ষা দপ্তর। জেলা শিক্ষা আধিকারিক সন্তোষ সিং সোলাঙ্কি তদন্তের নির্দেশ দেন এবং তদন্ত সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত শিক্ষককে বরখাস্ত রাখার সিদ্ধান্ত নেন।
এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে জবূর আহমেদ সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “আমি কেবল শশাঙ্কাসন শেখাচ্ছিলাম, যা যোগব্যায়ামের একটি স্বীকৃত ভঙ্গি। এটি নামাজ নয়, বরং সরকারের নির্ধারিত যোগ পাঠ্যক্রমেরই অংশ।” তিনি আরও দাবি করেন, এর মধ্যে কোনও ধর্মীয় উদ্দেশ্য ছিল না, কেবল শারীরিক শিক্ষার অংশ হিসেবেই শেখানো হচ্ছিল।
এই ঘটনাকে ঘিরে শুক্রবার বিদ্যালয়ে হাজির হয় হিন্দু জাগরণ মঞ্চের সদস্যরা। তারা বিদ্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ দেখায় এবং শিক্ষকের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানায়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, একটি পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু হয়েছে। তদন্তে দেখা হবে শিক্ষক ঠিক কী শেখাচ্ছিলেন এবং সেই যোগভঙ্গি সরকারি পাঠ্যক্রমের মধ্যে পড়ে কি না। জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, সরকারি বিদ্যালয়ে পাঠদানের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট নিয়ম আছে এবং সেই নিয়ম থেকে কোনও বিচ্যুতি হলে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


