জাতীয় শিক্ষানীতি (এনইপি) ২০২০-এর আওতায় এনসিইআরটি নবম শ্রেণির সমাজবিজ্ঞান বইয়ে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন করেছে। নতুন বইটি আগের তুলনায় অনেকটাই আলাদা। এবার ইতিহাস, ভূগোল, রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও অর্থনীতি—এই চারটি বিষয় একসঙ্গে একটি সমন্বিত পাঠ্যক্রমে রাখা হয়েছে।
নতুন বইয়ের সবচেয়ে বড় সংযোজন হলো ১৯৭৫-৭৭ সালের জরুরি অবস্থা নিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ অধ্যায়। এই অধ্যায়ে জরুরি অবস্থাকে স্বাধীন ভারতের গণতান্ত্রিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে নাগরিক স্বাধীনতা স্থগিত হওয়া, সংবাদমাধ্যমে সেন্সরশিপ, বিরোধী নেতাদের গ্রেপ্তার এবং পরে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা পুনরায় চালু হওয়ার বিষয়গুলি সহজ ভাষায় ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
এছাড়া ভারতের নির্বাচনী ব্যবস্থা ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান সম্পর্কেও আরও বিস্তারিত তথ্য যোগ করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা, ভোটার তালিকা তৈরি, ভোটার নিবন্ধন, ভোটগ্রহণ এবং নির্বাচন পরিচালনার পুরো প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন একটি অধ্যায় রাখা হয়েছে, যাতে শিক্ষার্থীরা দেশের নির্বাচন ব্যবস্থা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পায়।
তবে এই পরিবর্তনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বিতর্ক তৈরি হয়েছে সংবিধানের প্রস্তাবনা পাঠ্যসূচি থেকে বাদ দেওয়াকে ঘিরে। প্রস্তাবনায় ভারতের পরিচয় হিসেবে সার্বভৌম, সমাজতান্ত্রিক, ধর্মনিরপেক্ষ, গণতান্ত্রিক ও সাধারণতন্ত্রের কথা উল্লেখ রয়েছে। নতুন বইয়ে এই অংশটি আর নেই। বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। সমালোচকদের একাংশের দাবি, এই পরিবর্তন দেশের সাংবিধানিক মূল্যবোধের সঙ্গে সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলিকে দুর্বল করতে পারে। অন্যদিকে, সমর্থকদের মতে, নতুন পাঠ্যক্রমকে আরও সংক্ষিপ্ত ও বিষয়ভিত্তিক করতেই এই পরিবর্তন আনা হয়েছে।
এদিকে সমাজকর্মী ও রাজনীতিবিদ যোগেন্দ্র যাদব জানিয়েছেন, জরুরি অবস্থা নিয়ে আলোচনা নতুন নয়। তাঁর বক্তব্য, এনসিইআরটির পাঠ্যপুস্তকে ২০০৭ সাল থেকেই এই বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত ছিল। ফলে নতুন বইয়ে এই অধ্যায় যুক্ত হওয়াকে সম্পূর্ণ নতুন পদক্ষেপ বলা ঠিক হবে না।


