দেশের শিল্প ও ব্যবসার পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে কেন্দ্রীয় সরকারের প্রকাশিত এক পরিসংখ্যান। সংসদে দেওয়া কর্পোরেট বিষয়ক মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, গত পাঁচ বছরে দেশে প্রায় দু’লক্ষ সংস্থা তাদের কাজ বন্ধ করে দিয়েছে। এই তথ্য সামনে আসতেই দেশের অর্থনৈতিক অবস্থার বাস্তব চিত্র নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
জানা গিয়েছে ,এই সময়ে মোট ১ লক্ষ ৮৯ হাজারেরও বেশি কোম্পানির নাম রেজিস্টার থেকে মুছে দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ, তারা আর সক্রিয়ভাবে ব্যবসা করছে না। বিশেষ করে ২০২০-২১ থেকে ২০২২-২৩ অর্থবর্ষের মধ্যে বিপুল সংখ্যক সংস্থা বন্ধ হয়ে যায়। সরকারি তথ্য বলছে, কোম্পানি আইনের নির্দিষ্ট ধারায় বহু প্রতিষ্ঠানের নাম সরাসরি বাদ দেওয়া হয়েছে। ২০২১-২২ এবং ২০২২-২৩ সালে এই সংখ্যা হঠাৎ করেই অনেক বেড়ে যায়। এছাড়াও, প্রায় ৯১ হাজারের বেশি সংস্থা নিজেরাই কাজ গুটিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এত বড় সংখ্যায় প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাওয়া কোনও স্বাভাবিক ঘটনা নয়।
অর্থনীতিবিদদের একাংশের দাবি, নোটবন্দি, জিএসটি-র জটিল কাঠামো এবং কোভিডের সময় ছোট ব্যবসার জন্য পর্যাপ্ত সাহায্যের অভাব—সব মিলিয়েই ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বড় কর্পোরেট সংস্থাগুলি কিছু সুবিধা পেলেও ছোট ব্যবসাগুলি টিকে থাকতে পারেনি।
এদিকে ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য চুক্তি নিয়েও নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। অনেকের আশঙ্কা, বিদেশি পণ্যের জন্য বাজার আরও খুলে গেলে দেশীয় শিল্প ও কৃষি বড় ধাক্কা খেতে পারে। এতে ছোট ব্যবসা ও কৃষকদের সমস্যাও বাড়বে।
ভি. শিবদাসনের মতে, এই পরিস্থিতি দেশের অর্থনীতির গভীর সংকটের ইঙ্গিত দিচ্ছে। তিনি জনবিনিয়োগ বাড়ানো এবং ক্ষুদ্র শিল্পকে রক্ষার জন্য দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। না হলে কর্মসংস্থান ও উৎপাদন আরও কমে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।


