দেশজুড়ে নিট পরীক্ষাকে ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্ক আরও তীব্র হয়ে উঠছে। প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে সিবিআই। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে একের পর এক গ্রেফতারের খবর সামনে আসছে। এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিও ক্রমশ জোরালো হচ্ছে। পাশাপাশি, নিট পরিচালনাকারী সংস্থা ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি বা এনটিএ-কে বাতিল করার দাবিতে রাস্তায় নামছেন বহু ছাত্রছাত্রী।
বৃহস্পতিবার দিল্লি, জয়পুর, মুম্বই-সহ দেশের একাধিক বড় শহরে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হয়। বিভিন্ন জায়গায় হাজার হাজার পড়ুয়া এই আন্দোলনে যোগ দেন। রাজস্থানে সবচেয়ে বেশি উত্তেজনার ছবি দেখা গিয়েছে। জয়পুরে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের ধস্তাধস্তির ঘটনাও ঘটে। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ হস্তক্ষেপ করলে কয়েকজন আহত হন বলে জানা গিয়েছে। তাঁদের মধ্যে কয়েকজনকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছে।
এই আন্দোলনে বিরোধী ছাত্র সংগঠনগুলিও সক্রিয় ভূমিকা নিচ্ছে। কংগ্রেসের ছাত্র সংগঠন বিভিন্ন শহরে মিছিল করে কেন্দ্র সরকারের বিরুদ্ধে স্লোগান তোলে। অন্যদিকে, সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ নামের একটি প্রতীক ব্যবহার করেও অনেক পড়ুয়াকে আন্দোলনে অংশ নিতে দেখা যায়। ফলে বিষয়টি এখন শুধু পরীক্ষার গণ্ডিতে আটকে নেই, তা রাজনৈতিক ও সামাজিক ইস্যুতেও পরিণত হয়েছে।
এদিকে মহারাষ্ট্রের উচ্চ ও কারিগরি শিক্ষামন্ত্রী চন্দ্রকান্ত পাতিল নিট পরীক্ষার সময়সূচি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁর মতে, জুন মাসে নিট আয়োজন হলে রাজ্যের অন্যান্য পরীক্ষার সূচিতে সমস্যা তৈরি হতে পারে। কারণ, সেই সময়েই বিভিন্ন শিক্ষাক্রমের পরীক্ষা শেষ হওয়ার কথা থাকে। নিটের জন্য সময়সূচি বদলালে পড়াশোনার ধারাবাহিকতা নষ্ট হতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, বহু ছাত্রছাত্রী নিটে আশানুরূপ ফল না করলে পরে ইঞ্জিনিয়ারিং বা ফার্মেসির দিকে ঝুঁকে যায়। কিন্তু পরীক্ষার সময় এগিয়ে গেলে সেই সুযোগও কমে যেতে পারে। ফলে ছাত্রছাত্রীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে চিন্তা তৈরি হয়েছে।
প্রতিবাদকারীদের দাবি, নিটে দুর্নীতির সঙ্গে যুক্তদের দ্রুত চিহ্নিত করে কঠোর শাস্তি দিতে হবে। পাশাপাশি সিবিআই তদন্তের উপর আদালতের নজরদারিও চাওয়া হচ্ছে। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, এনটিএ-র উপর ভরসা হারিয়েছে সাধারণ ছাত্রছাত্রীরা। তাই ভবিষ্যতে এই সংস্থা কীভাবে স্বচ্ছভাবে পরীক্ষা পরিচালনা করবে, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।


