জম্মু ও কাশ্মীরের রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ ছড়াল মুখ্যমন্ত্রী ওমার আব্দুল্লাহ-এর বক্তব্যকে ঘিরে। তিনি শাসক দল ভারতীয় জনতা পার্টির বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন। তাঁর দাবি, বিরোধী নেতাদের সরাসরি মোকাবিলা করতে না পেরে তাঁদের পরিবারের সদস্যদের নিশানা করা হচ্ছে।
রাজৌরি জেলার নওশেরা এলাকায় একটি জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে আবদুল্লাহ বলেন, সামান্য অভিযোগের ভিত্তিতেই বিরোধীদের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করা হচ্ছে। কিন্তু সেই অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় পরে তাঁদের আত্মীয়দের দিকে নজর ঘোরানো হচ্ছে। তাঁর কথায়, রাজনৈতিক প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়েই এই ধরনের কৌশল নেওয়া হচ্ছে।
মুখ্যমন্ত্রী প্রশ্ন তোলেন, যদি রাজনৈতিকভাবে লড়াই করার শক্তি থাকে, তাহলে পরিবারের সদস্যদের টেনে আনার প্রয়োজন কেন? তিনি দাবি করেন, বারবার অভিযোগ আনা হলেও সেগুলোর কোনও ভিত্তি পাওয়া যায়নি। ফলে প্রশাসনিক ব্যবস্থার অপব্যবহার করে বিরোধীদের চাপে রাখার চেষ্টা চলছে।
এদিন তিনি উপমুখ্যমন্ত্রী সুরিন্দর কুমার চৌধুরীর প্রসঙ্গও তোলেন। আবদুল্লাহর অভিযোগ, চৌধুরীর পরিবারের একজন সদস্যকে অকারণে সমস্যার মুখে পড়তে হয়েছে। তাঁর কথায়, শুধুমাত্র রাজনৈতিক সম্পর্ক থাকার কারণেই ওই ব্যক্তিকে পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে এবং অন্যত্র বদলি করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, কেউ যদি নির্বাচনে জিতে আসে, তা ব্যক্তিগত যোগ্যতার ফল। সেই কারণে তাঁর পরিবারের অন্য সদস্যদের শাস্তি পাওয়ার কোনও যুক্তি নেই। আবদুল্লাহ এই ঘটনাকে অন্যায় এবং পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ বলে উল্লেখ করেন।
তবে এই সমস্ত অভিযোগের বিষয়ে এখনও পর্যন্ত বিজেপির তরফে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করতে গিয়ে আবদুল্লাহ বলেন, তাঁর দল সব সম্প্রদায়ের মানুষের স্বার্থে কথা বলে। সমাজে বিভাজন নয়, ঐক্য বজায় রাখাই তাঁদের লক্ষ্য। তিনি দাবি করেন, তাঁদের নেতারা বিধানসভায় মানুষের অধিকার, রাজ্যের মর্যাদা এবং সম্প্রীতির বিষয় তুলে ধরেন।
শেষে নিজের সরকারের কাজের দিকেও আলোকপাত করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত করাই তাঁদের প্রধান লক্ষ্য। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, রাস্তাঘাটের উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থান বাড়ানোর দিকেই প্রশাসনের জোর রয়েছে। পাশাপাশি দারিদ্র্য কমানোর জন্যও বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে তিনি জানান।


