নয়ডায় এক বৃদ্ধ মুসলিম ব্যক্তির ওপর আক্রমণের ঘটনায় তদন্তে ঢিলেমি নিয়ে উত্তরপ্রদেশ সরকারের ওপর অসন্তোষ প্রকাশ করেছে দেশের শীর্ষ আদালত। মঙ্গলবার বিচারপতিদের একটি বেঞ্চ পুলিশের জমা দেওয়া রিপোর্ট খতিয়ে দেখে কঠোর মন্তব্য করে। আদালতের বক্তব্য, তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ আইনগত ধারাগুলি সঠিকভাবে প্রয়োগ করা হয়নি এবং বিষয়টি নিয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত অফিসাররা স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিচ্ছেন না।
এই মামলা শুরু হয় এক প্রবীণ নাগরিকের অভিযোগের ভিত্তিতে। তিনি জানান, ২০২১ সালের ৪ জুলাই নয়ডায় কয়েকজন ব্যক্তি তাঁকে রাস্তায় আটকায়, অপমান করে এবং শারীরিকভাবে নির্যাতন চালায়। অভিযোগ অনুযায়ী, তাঁর ধর্মীয় পরিচয় ও দাড়ির জন্য তাঁকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়। হামলার সময় তাঁর ধর্ম নিয়ে কটূক্তিও করা হয় বলে দাবি করেন তিনি।
শুনানির সময় আদালত বিশেষভাবে জানতে চায় কেন এমন একটি ধারা যুক্ত করা হয়নি, যা জাতিগত বা ধর্মীয় বিদ্বেষ ছড়ানোর বিরুদ্ধে ব্যবহৃত হয়। এর আগে ফেব্রুয়ারি মাসে রাজ্য সরকার নিজেই স্বীকার করেছিল, এই ঘটনায় ওই ধারাসহ আরও একটি প্রাসঙ্গিক ধারা প্রয়োগ করা উচিত ছিল। কিন্তু পরবর্তী রিপোর্টে সেই গুরুত্বপূর্ণ ধারাটি বাদ দেওয়া হয়, যা নিয়ে প্রশ্ন তোলে আদালত।
সরকারের আইনজীবীর কাছে বিচারপতিরা জানতে চান, কেন এই পরিবর্তন করা হল। একই সঙ্গে সতর্ক করে দেওয়া হয়, প্রয়োজন হলে তদন্তকারী কর্মকর্তাকে সরাসরি আদালতে হাজির হতে বলা হবে।
আবেদনকারীর অভিযোগ, স্থানীয় পুলিশ শুরু থেকেই ঘটনাটিকে যথাযথ গুরুত্ব দেয়নি এবং শীর্ষ আদালতের নির্দেশও পুরোপুরি মানা হয়নি। এই প্রেক্ষিতে আদালত নির্দেশ দিয়েছে, আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে সব প্রয়োজনীয় আইনগত ধারা যুক্ত করে তদন্ত এগিয়ে নিতে হবে। মামলার পরবর্তী শুনানি নির্ধারিত হয়েছে ১৯ মে।


