পহেলগামের ভয়ংকর জঙ্গি হামলার এক বছর পেরিয়ে গেলেও সেই দিনের ভয়াবহতা এখনো মুছে দেশবাসী মন থেকে। নিহতদের পরিবার আজও গভীর কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন। সঙ্গীতা, প্রিয়দর্শিনী, হিমাংশীর মতো অনেকেই তাদের প্রিয়জনকে হারিয়ে আজও শোকের মধ্যে রয়েছেন। তাদের মনে বারবার একটি প্রশ্ন ঘোরে এমন একটি ঘটনা কীভাবে ঘটল, আর কেন এর সঠিক উত্তর তারা পাচ্ছেন না।
কাশ্মীরের জনপ্রিয় বৈসরণ উপত্যকা সবসময় নিরাপত্তা বাহিনীর নজরদারিতে থাকে। তবুও কীভাবে জঙ্গিরা সেখানে ঢুকে পড়ল, তা আজও পরিষ্কার নয়। এই ঘটনায় নিরাপত্তা ব্যবস্থার বড় ত্রুটি সামনে এসেছে বলে মনে করা হচ্ছে। কিন্তু এক বছর পার হলেও কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে বিস্তারিত ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
গত বছরের ২২ এপ্রিল, বৈসরণে হঠাৎ জঙ্গিরা আক্রমণ চালায়। তারা জঙ্গল থেকে বেরিয়ে এসে নিরীহ পর্যটকদের উপর গুলি চালায়। বিশেষ করে হিন্দু পর্যটকদের লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ। এই নৃশংস ঘটনায় অনেক মানুষ প্রাণ হারান। পর্যটকদের বাঁচাতে গিয়ে এক স্থানীয় যুবকও নিজের জীবন হারান। সেই দিনের স্মৃতি আজও পরিবারগুলোর কাছে দুঃস্বপ্নের মতো।
নিহতদের পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, সরকার তাদের কিছু প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। যেমন চাকরি ও সন্তানের পড়াশোনার দায়িত্ব নেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু অনেকেই অভিযোগ করেছেন, সেই প্রতিশ্রুতি এখনো পুরোপুরি পূরণ হয়নি। ফলে তাদের দুঃখের সঙ্গে যোগ হয়েছে অনিশ্চয়তা।
একটি জাতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই হামলার পিছনে কার গাফিলতি ছিল, তা নিয়ে স্পষ্ট তদন্তের ফল এখনো সামনে আসেনি। হামলার পর দিল্লিতে সর্বদলীয় বৈঠক হলেও গোয়েন্দা সংস্থাগুলির পক্ষ থেকে পরিষ্কার উত্তর পাওয়া যায়নি। যদিও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের কিছু আধিকারিক স্বীকার করেছেন যে কোথাও না কোথাও বড় ভুল হয়েছিল।
ঘটনার আগে নিরাপত্তা নিয়ে বৈঠক হলেও সেখানে সম্ভাব্য হামলার বিষয়ে আলোচনা হয়েছিল কি না, তা এখনও অজানা। আরও আশ্চর্যের বিষয়, হামলার আগে ওই এলাকা থেকে একটি সিআরপিএফ বাহিনী সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। অথচ কাছেই সেনা শিবির থাকা সত্ত্বেও পর্যটকদের যথেষ্ট সুরক্ষা দেওয়া হয়নি।
তদন্তে জানা গেছে, জঙ্গিরা হামলার কয়েকদিন আগে থেকেই ওই এলাকায় অবস্থান করছিল। কিন্তু স্থানীয় পুলিশ বা গোয়েন্দারা তা বুঝতে পারেনি। এতে নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
এই ঘটনায় নিহত এক নৌসেনা কর্মকর্তার পরিবারও গভীর শোকে রয়েছে। তাদের মতে, সেই দিনের পর তাদের জীবন আর আগের মতো নেই। বারবার সাধারণ মানুষকে লক্ষ্য না করার আবেদন জানানো হলেও এমন ঘটনা বন্ধ হয়নি।
সব মিলিয়ে, এক বছর পরও এই হামলার অনেক প্রশ্নের উত্তর অজানা। নিহতদের পরিবার এখনো ন্যায়বিচার ও সঠিক তথ্যের অপেক্ষায় রয়েছে।


