অসমে বিধানসভা ভোটের ঠিক আগে রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বেড়ে গেল। মঙ্গলবার দিল্লির নিজামুদ্দিন পূর্ব এলাকায় কংগ্রেস মুখপাত্র পবন খেরা-র বাড়িতে পৌঁছয় অসম পুলিশের একটি দল। তাঁদের সঙ্গে দিল্লি পুলিশেরও কয়েকজন সদস্য ছিলেন। তবে বাড়িতে গিয়ে খেরাকে না পেয়ে বেশ কিছুক্ষণ অপেক্ষা করেও খালি হাতে ফিরতে হয় পুলিশকে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিরোধীদের দাবি, ভোটের মুখে বিরোধী কণ্ঠকে চাপে রাখতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। অনেকের মতে, এটি প্রশাসনের অপব্যবহারের স্পষ্ট উদাহরণ। বিশেষ করে অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা-র ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
ঘটনার সূত্রপাত কয়েক দিন আগে। এক সাংবাদিক বৈঠকে পবন খেরা অভিযোগ করেন, মুখ্যমন্ত্রীর স্ত্রী রিনিকি ভূঁইয়া শর্মা-র একাধিক পাসপোর্ট রয়েছে এবং বিদেশে কিছু সম্পত্তির তথ্য গোপন রাখা হয়েছে। এই অভিযোগ সামনে আসতেই রাজনৈতিক মহলে তোলপাড় শুরু হয়। যদিও মুখ্যমন্ত্রী ও তাঁর পরিবার এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন।
রিনিকি ভূঁইয়া শর্মা পাল্টা দাবি করেন, যে নথিগুলি সামনে আনা হয়েছে সেগুলি নাকি ভুয়ো এবং প্রযুক্তির সাহায্যে তৈরি। তিনি কংগ্রেসকে কটাক্ষ করে বলেন, তাঁকে ও তাঁর পরিবারকে উদ্দেশ্য করে ইচ্ছাকৃতভাবে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। তবে বিরোধীদের বক্তব্য, সত্যিই যদি অভিযোগ ভিত্তিহীন হয়, তাহলে আইনের পথে স্বচ্ছ তদন্ত হওয়াই উচিত, রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি নয়।
এদিকে, মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা দাবি করেছেন যে এই অভিযোগ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং সম্পূর্ণ মিথ্যা। তিনি কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন। কিন্তু সমালোচকদের মতে, এই ধরনের বক্তব্য আসলে ভোটের আগে জনমত ঘোরানোর চেষ্টা। অসমে ভোট হতে আর মাত্র দু’দিন বাকি। এই সময়ে এমন ঘটনায় রাজনৈতিক পরিবেশ আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। সাধারণ মানুষের একাংশ মনে করছেন, উন্নয়ন ও জনস্বার্থের প্রশ্নে আলোচনা না করে রাজনৈতিক দলগুলি ব্যক্তিগত আক্রমণ ও বিতর্কে বেশি মন দিচ্ছে।


