উত্তরাখণ্ডের দেরাদুনে এক হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের নেত্রীর বক্তব্য এবং আচরণকে কেন্দ্র করে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও ঘিরে রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, এক মুসলিম যুবকের সঙ্গে প্রকাশ্যে দুর্ব্যবহার করছেন ওই নেত্রী। এই ঘটনাকে ঘিরে নানা মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
জানা গিয়েছে, রাধা সেমওয়াল ধোনি নামে ওই নেত্রী দেরাদুনের একটি হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত। সম্প্রতি একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে, যেখানে তাঁকে এক যুবকের সঙ্গে বচসায় জড়াতে দেখা যায়। অভিযোগ, ওই যুবক এলাকার মহিলাদের দিকে আপত্তিকরভাবে তাকাচ্ছিলেন বলে সন্দেহ প্রকাশ করেন তিনি।
ভিডিওতে দেখা যায়, রাধা সেমওয়াল ওই যুবককে প্রকাশ্যে চড় মারছেন এবং তাঁর চুল টানছেন। পাশাপাশি তাঁকে লক্ষ্য করে একাধিক কটূক্তিও করতে শোনা যায়। যদিও ভিডিওতে থাকা যুবক বারবার নিজেকে নির্দোষ বলে দাবি করেছেন।
ঘটনার সময় উপস্থিত কয়েকজনের সামনেই ওই নেত্রী মুসলিম সম্প্রদায়ের ভাড়াটিয়াদের নিয়ে মন্তব্য করেন। তিনি স্থানীয় বাসিন্দাদের উদ্দেশে বলেন, মুসলিমদের বাড়ি ভাড়া না দেওয়ার বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। এমনকি কেউ মুসলিম ভাড়াটিয়া রাখলে তাঁর বিরুদ্ধে প্রশাসনের কাছে অভিযোগ জানানো হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন।
এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক মাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকেই অভিযোগ করেছেন, কোনও নির্দিষ্ট সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে এ ধরনের মন্তব্য সমাজে বিভাজন বাড়াতে পারে। অন্যদিকে, তাঁর সমর্থকদের একাংশ দাবি করেছেন, তিনি এলাকার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মাত্র।
রাধা সেমওয়াল ধোনিকে ঘিরে এর আগেও একাধিক বিতর্ক সামনে এসেছে। বিভিন্ন সময়ে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে নিয়ে তাঁর মন্তব্য নিয়ে সমালোচনা হয়েছে। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া আরও কয়েকটি ভিডিওতে তাঁকে বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় করতে এবং বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে অংশ নিতে দেখা গিয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে।
তবে ভাইরাল হওয়া ভিডিওগুলির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। প্রশাসনের পক্ষ থেকেও এই ঘটনার বিষয়ে এখনও পর্যন্ত বিস্তারিত কোনও সরকারি বিবৃতি সামনে আসেনি।
ঘটনার পর সামাজিক মাধ্যমে তর্ক-বিতর্ক আরও বেড়েছে। অনেকেই আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। পাশাপাশি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখা এবং আইন মেনে চলার প্রয়োজনীয়তার কথাও উঠে এসেছে বিভিন্ন মহলে।


