রাজস্থানের ভিওয়াড়ি এলাকায় এক চাঞ্চল্যকর ঘটনায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়েছে। অভিযোগ, পুলিশি হেফাজতে থাকা এক দলিত কিশোরকে মারধর ও নির্যাতন করা হয়েছে। বর্তমানে প্রায় ১৬ বছর বয়সী ওই কিশোর গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
জানা গিয়েছে, একটি চুরির মামলার তদন্ত করতে গিয়ে সিসিটিভি ফুটেজের ভিত্তিতে ওই কিশোরকে আটক করে পুলিশ। পরিবারের দাবি, থানায় নিয়ে যাওয়ার পর থেকেই তার ওপর শারীরিক নির্যাতন শুরু হয়। যদিও এখনও পর্যন্ত চুরির অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি। তবুও তাকে মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে, যা নিয়ে ক্ষোভ বাড়ছে।
ঘটনার কয়েক দিন পর চারজন পুলিশকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে, যার মধ্যে থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকও রয়েছেন। প্রথমদিকে বিষয়টি চাপা দেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল বলেও অভিযোগ উঠেছে। পরে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির চাপে প্রশাসন পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়।
পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, কিশোরটি ফুসফুসের সংক্রমণে ভুগছে এবং সেই কারণেই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তবে পরিবারের দাবি একেবারেই আলাদা। তাদের অভিযোগ, মারধরের ফলেই তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়েছে এবং শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাত লেগেছে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বিরোধী নেতারা সরকারের সমালোচনায় সরব হয়েছেন। তাঁদের দাবি, রাজ্যে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভেঙে পড়ছে এবং বিশেষ করে দলিত সম্প্রদায়ের ওপর অত্যাচার বাড়ছে। মুখ্যমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিও উঠেছে।
যাদের দায়িত্ব সাধারণ মানুষের সুরক্ষা দেওয়া, তারাই যদি নির্যাতনের অভিযোগে জড়ায়, তাহলে মানুষের ভরসা কোথায় থাকবে? পাশাপাশি অভিযোগ ওঠে, প্রথমে পুলিশ অভিযোগ নিতে চাইছিল না এবং পরিবারকে চাপ দেওয়া হচ্ছিল।
পর্যবেক্ষকদের একাংশ মনে করছেন, এই ঘটনা কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। বরং সমাজের প্রান্তিক অংশের মানুষের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণের একটি উদাহরণ। সাম্প্রতিক সময়ে হেফাজতে নির্যাতন ও মৃত্যুর ঘটনা বাড়ছে বলেও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত ও দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবিতে সরব হয়েছে বিভিন্ন মহল।


