কর্ণাটকে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়াল কংগ্রেসের একটি নতুন অভিযোগে। রাজ্য কংগ্রেস সভাপতি বি কে হরিপ্রসাদ দাবি করেছেন, আরএসএসের প্রবীণ নেতা রাম মাধব একাধিকবার পাকিস্তানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। তাঁর এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।
বুধবার দলের নির্বাচনী প্রচার কমিটির এক বৈঠকে বক্তব্য রাখতে গিয়ে হরিপ্রসাদ বলেন, রাম মাধব সম্প্রতি বেঙ্গালুরুর পুরসভা নির্বাচনের দায়িত্ব পেয়েছেন। কিন্তু সেই দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তিনি বিদেশে গিয়ে পাকিস্তানের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করেছেন বলেও অভিযোগ করেন কংগ্রেস নেতা।
হরিপ্রসাদের দাবি, লন্ডন এবং শ্রীলঙ্কার কলম্বোয় মোট চারবার এই ধরনের বৈঠক হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, ওই বৈঠকগুলিতে পাকিস্তানের প্রভাবশালী ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। এমনকি পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থার এক প্রাক্তন উচ্চপদস্থ আধিকারিকও সেখানে ছিলেন বলে তিনি দাবি করেন। যদিও এই অভিযোগের পক্ষে তিনি কোনও নতুন প্রমাণ প্রকাশ করেননি। একটি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের উল্লেখ করে তিনি এই মন্তব্য করেন।
তবে রাম মাধব ইতিমধ্যেই সমস্ত অভিযোগ খারিজ করেছেন। তাঁর বক্তব্য, তিনি কোনও গোপন বা অনানুষ্ঠানিক ভারত-পাকিস্তান আলোচনায় অংশ নেননি। সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি জানান, দক্ষিণ এশিয়া সংক্রান্ত একটি আন্তর্জাতিক আলোচনাসভায় অংশ নিতে তিনি কলম্বো গিয়েছিলেন। সেখানে ভারত, শ্রীলঙ্কা, আমেরিকা, ব্রিটেন, আফগানিস্তান এবং পাকিস্তান-সহ একাধিক দেশের গবেষক ও বিশেষজ্ঞরা উপস্থিত ছিলেন।
রাম মাধব আরও বলেন, তিনি পুরো কর্মসূচিতে ছিলেন না। নির্দিষ্ট একটি অধিবেশনে বক্তব্য রাখার জন্য তাঁকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। বক্তব্য শেষ করেই তিনি সেখান থেকে চলে আসেন। ফলে এটিকে ভারত-পাকিস্তান বৈঠক হিসেবে দেখানো ঠিক নয় বলে তাঁর দাবি।
এদিকে কংগ্রেসের পক্ষ থেকে প্রশ্ন তোলা হয়েছে, যদি কোনও বৈঠক হয়ে থাকে, তবে তা কি সরকারি অনুমতি নিয়ে হয়েছিল? হরিপ্রসাদের বক্তব্য, রাম মাধব কোনও মন্ত্রী, সাংসদ বা সরকারি প্রতিনিধি নন। তাই বিদেশনীতি সংক্রান্ত বিষয়ে তাঁর ভূমিকা কী ছিল, তা স্পষ্ট করা প্রয়োজন।
এই প্রসঙ্গে কংগ্রেস বিজেপির অতীতের কিছু ঘটনাও তুলে ধরে। পাশাপাশি অভিযোগ করা হয়, নির্বাচনের সময়ে বিজেপি বারবার পাকিস্তান-সহ নানা আবেগঘন ইস্যু সামনে আনে, কিন্তু সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন সমস্যা, কর্মসংস্থান বা কৃষকদের দুর্দশার মতো বিষয়গুলি নিয়ে পর্যাপ্ত আলোচনা করে না।
অন্যদিকে বিজেপি বা আরএসএসের তরফে এই নতুন অভিযোগের বিষয়ে এখনও কোনও বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে রাজনৈতিক মহলের মতে, কর্ণাটকে স্থানীয় নির্বাচন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে এই ইস্যু নিয়ে দুই প্রধান রাজনৈতিক শিবিরের মধ্যে চাপানউতোর আরও বাড়তে পারে।


