Thursday, July 2, 2026
30.9 C
Kolkata

বারাণসীতে দুই নৌকা-কাণ্ডে পৃথক আইনি বিচার? ৫ জনের দ্রুত জামিন, ১৪ মুসলিমের দুই মাস জেল

উত্তরপ্রদেশের বারাণসীতে মাঝ গঙ্গায় নৌকায় বসে মাংস রান্না এবং মদ্যপানের অভিযোগে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করার ঘটনায় নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। কারণ, গ্রেপ্তারের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তাঁরা জামিন পেয়ে যান। অথচ কয়েক মাস আগে প্রায় একই ধরনের অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া ১৪ জন মুসলিম যুবককে প্রায় দুই মাস জেলে কাটাতে হয়েছিল। দুই ঘটনার মধ্যে আইনি ব্যবস্থার পার্থক্য নিয়ে প্রশ্ন তুলছে বিভিন্ন মহল।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ২৩ জুন সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। সেই ভিডিওতে কয়েকজনকে গঙ্গার উপর একটি ছোট নৌকায় বসে মাংস রান্না করতে এবং মদের বোতল নিয়ে আড্ডা দিতে দেখা যায়। ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর বারাণসীর দশাশ্বমেধ থানার পুলিশ স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে মামলা দায়ের করে।

পুলিশের অভিযোগ ছিল, গঙ্গা হিন্দুদের কাছে পবিত্র বলে বিবেচিত নদীর উপর এই ধরনের কাজ মানুষের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করতে পারে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে পাঁচজনকে আটক করা হয়। তবে একই দিনেই তাঁরা জামিন পেয়ে যান।

ঘটনার পর সামনে আসে আর একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। পুলিশ যে এফআইআর দায়ের করেছিল, সেখানে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত এবং বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে বিদ্বেষ ছড়ানোর মতো ধারার উল্লেখ ছিল। কিন্তু আদালতে জমা দেওয়া নথিতে সেই ধারাগুলির উল্লেখ দেখা যায়নি। সেখানে মূলত শান্তিভঙ্গের আশঙ্কা এড়াতে পুলিশি পদক্ষেপের কথা বলা হয়েছে।

এই বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই পুলিশ জানায়, তদন্ত এখনও চলছে। ভবিষ্যতে প্রয়োজন হলে আরও ধারা যোগ করা হতে পারে। তবে কেন এফআইআর এবং আদালতে জমা দেওয়া নথির মধ্যে এত পার্থক্য, সেই বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা মেলেনি।

এদিকে এই ঘটনাকে ঘিরে নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে চলতি বছরের মার্চ মাসের একটি ঘটনা। তখন গঙ্গার উপর নৌকায় বসে রোজা ভাঙার সময় খাবার খাওয়ার অভিযোগে ১৪ জন মুসলিম যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। অভিযোগ ছিল, তাঁরা নৌকায় বসে চিকেন বিরিয়ানি খেয়েছিলেন এবং খাবারের কিছু অংশ নদীতে ফেলেছিলেন।

সেই ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকে একাধিক গুরুতর ধারা প্রয়োগ করা হয়। ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত, জনস্বার্থে বিঘ্ন সৃষ্টি, জল দূষণ-সহ বেশ কয়েকটি অভিযোগ আনা হয়েছিল। পরে আরও কিছু কঠোর ধারা যোগ করা হয়, যার মধ্যে ছিল ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায়ের অভিযোগও।

গ্রেপ্তারের পর ওই ১৪ জনকে বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয়। নিম্ন আদালত এবং সেশনস কোর্টে তাঁদের জামিনের আবেদন খারিজ হয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত এলাহাবাদ হাইকোর্টে আবেদন করার পর ধাপে ধাপে তাঁরা জামিন পান। পুরো প্রক্রিয়ায় প্রায় দুই মাস সময় লেগেছিল।

দুটি ঘটনার মধ্যে আইনি ব্যবস্থার এই পার্থক্য নিয়ে এখন রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, অভিযোগের ধরন প্রায় একই হলেও এক ক্ষেত্রে দ্রুত জামিন এবং অন্য ক্ষেত্রে দীর্ঘ কারাবাস কেন হল। যদিও পুলিশ দাবি করেছে, দুই ঘটনার পরিস্থিতি ও তদন্তের ভিত্তি আলাদা।

Hot this week

পাক আধিকারিকদের সঙ্গে RSS নেতা রাম মাধবের ৪টি গোপন বৈঠক! বিস্ফোরক দাবি কংগ্রেসের

কর্ণাটকে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়াল কংগ্রেসের একটি নতুন অভিযোগে। রাজ্য...

‘মমতার নির্দেশেই নষ্ট করা হয় অভয়ার ভিসেরা নমুনা’ আর জি কর কাণ্ডে বিস্ফোরক দাবি

আর জি কর মেডিক্যাল কলেজের তরুণী চিকিৎসকের মৃত্যু মামলায়...

চাকরি নিয়ে অনিশ্চয়তা, আন্দোলনের পথে কলকাতার সাড়ে ৩ হাজার মিড-ডে মিল কর্মী

কলকাতার সরকারি ও সরকারপোষিত স্কুলে মিড-ডে মিল তৈরির দায়িত্ব...

Topics

পাক আধিকারিকদের সঙ্গে RSS নেতা রাম মাধবের ৪টি গোপন বৈঠক! বিস্ফোরক দাবি কংগ্রেসের

কর্ণাটকে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়াল কংগ্রেসের একটি নতুন অভিযোগে। রাজ্য...

চাকরি নিয়ে অনিশ্চয়তা, আন্দোলনের পথে কলকাতার সাড়ে ৩ হাজার মিড-ডে মিল কর্মী

কলকাতার সরকারি ও সরকারপোষিত স্কুলে মিড-ডে মিল তৈরির দায়িত্ব...

রামের নামকে ভোটের অস্ত্র বানিয়েছে বিজেপি, দাবি কেজরিওয়ালের

অযোধ্যার রাম মন্দিরে দানের টাকা ও সামগ্রী চুরির অভিযোগ...

গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে জর্জরিত বিজেপি, পূর্ব বর্ধমানে বিধায়ক মানব গুহর অফিসে চলল ভাঙচুর

পূর্ব বর্ধমানে বিজেপির অন্দরের মতবিরোধ এবার প্রকাশ্যে চলে এল।...

Related Articles

Popular Categories