অযোধ্যার রামমন্দিরে ভক্তদের দেওয়া দানসামগ্রী ও অর্থের হিসাব নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। সম্প্রতি একাধিক অভিযোগ সামনে আসার পর বিষয়টি নিয়ে উত্তরপ্রদেশ সরকারের উপর চাপ বাড়ছে। এর মধ্যেই প্রকাশ্যে এসেছে কয়েক বছর আগের একটি অডিট রিপোর্ট, যা নিয়ে নতুন প্রশ্ন উঠেছে।
জৌনপুরের বাসিন্দা অনিল বিশ্বকর্মা ও তাঁর পরিবার গত বছর দীর্ঘ পথ হেঁটে অযোধ্যায় পৌঁছেছিলেন। ভক্তিভরে তাঁরা রামলালার উদ্দেশে রুপোর মালা ও চরণ পাদুকাসহ কয়েকটি মূল্যবান সামগ্রী দান করেন। কিন্তু পরিবারের দাবি, দানের আট মাস পরেও তাঁরা কোনও আনুষ্ঠানিক রসিদ পাননি। এই অভিযোগ সামনে আসার পর আরও কয়েকজন ভক্তও দানসামগ্রীর হিসাব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
এরই মধ্যে জানা গেছে, শ্রীরাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্ট গঠনের কিছুদিন পর একটি বেসরকারি অডিট সংস্থা তাদের একটি রিপোর্টে সম্ভাব্য প্রশাসনিক দুর্বলতার বিষয়ে সতর্ক করেছিল। ২০২০ সালের ওই রিপোর্টে বলা হয়েছিল, মন্দির নির্মাণ ও পরিচালনার জন্য বিপুল পরিমাণ অর্থ এবং মূল্যবান উপহার আসতে পারে। সেই কারণে দান গ্রহণ, সংরক্ষণ ও হিসাব রাখার ক্ষেত্রে কঠোর নিয়ম চালু করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল।
অডিট সংস্থার মতে, প্রতিটি দানসামগ্রীর বিস্তারিত নথিভুক্ত করা, স্টক রেজিস্টার রাখা এবং আর্থিক লেনদেনের স্বচ্ছ ব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি ছিল। এছাড়া দক্ষ মানবসম্পদ বিভাগ, তথ্য সংরক্ষণ ব্যবস্থা এবং প্রশিক্ষিত কর্মী নিয়োগের প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করা হয়েছিল। তবে সেই সুপারিশগুলি কতটা বাস্তবায়িত হয়েছে, তা নিয়ে এখন প্রশ্ন উঠছে।
রামমন্দির নির্মাণের জন্য সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে শ্রীরাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্ট গঠন করা হয়। মন্দিরের সমস্ত নির্মাণ ও প্রশাসনিক দায়িত্ব বর্তমানে এই ট্রাস্টের হাতেই রয়েছে।
দানসামগ্রীর হিসাব নিয়ে অভিযোগ বাড়তে থাকায় উত্তরপ্রদেশ সরকার একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) গঠন করেছে। ইতিমধ্যেই তদন্তকারী দল তাদের প্রাথমিক রিপোর্ট প্রশাসনের কাছে জমা দিয়েছে। যদিও সেই রিপোর্টে কারও নাম উল্লেখ করা হয়েছে কি না বা কত টাকার সম্পত্তি ও দানসামগ্রীর হিসাব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, তা এখনও প্রকাশ করা হয়নি।
অন্যদিকে, বহু বছর আগে দেওয়া অডিট সংস্থার সতর্কবার্তা প্রকাশ্যে আসায় ট্রাস্টের কাজকর্ম নিয়ে আরও জোরালো বিতর্ক শুরু হয়েছে। তবে এই বিষয়ে ট্রাস্ট কর্তৃপক্ষ বা তাদের শীর্ষ পদাধিকারীদের পক্ষ থেকে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করা হয়নি। ফলে তদন্তের চূড়ান্ত রিপোর্টের দিকেই এখন নজর রাখছেন সকলেই।


