এস এস কলেজে ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষ উপলক্ষে বার্ষিক মিলাদুন্নবী (সা.) মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। এই ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে কলেজ প্রাঙ্গণে ছাত্রছাত্রী, শিক্ষক-শিক্ষিকা ও অতিথিদের উপস্থিতিতে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রাক্তন সাংসদ, পশ্চিমবঙ্গ সংখ্যালঘু কমিশনের চেয়ারম্যান এবং বিশিষ্ট লেখক আহমদ হাসান ইমরান। তাঁর বক্তব্যে তিনি বলেন, ইসলাম ধর্মে নারীদের বিশেষ সম্মান ও অধিকার দেওয়া হয়েছে। ইসলাম নারীদের অবহেলা করে, এমন ধারণা সম্পূর্ণ ভুল বলে তিনি মন্তব্য করেন। তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, হযরত মা আয়েশা (রা.) ইসলামের জ্ঞানচর্চায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন এবং তাঁর কাছ থেকেই বহু হাদিস সংগ্রহ করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, নারীরা এগিয়ে এলে সমাজও এগিয়ে যায়। একসময় সমাজে নারীদের প্রতি অমানবিক আচরণ চালু থাকলেও মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) সেসব অন্যায় প্রথার অবসান ঘটান। আহমদ হাসান ইমরান তাঁর বক্তব্যে আরও বলেন, ইসলাম কোনও নতুন ধর্ম নয়। হযরত আদম (আ.) থেকেই ইসলামের মূল শিক্ষা শুরু হয়েছিল, যা পরবর্তী নবীদের মাধ্যমে যুগে যুগে বিস্তার লাভ করে। শেষ নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) ইসলামের পূর্ণাঙ্গ রূপ তুলে ধরেন। তিনি ধর্মের নামে সংঘাত নয়, বরং ভালো কাজ ও মানবকল্যাণে নিজেকে নিয়োজিত রাখার আহ্বান জানান। আসন্ন রমজান মাসে বেশি করে ইবাদত করার কথাও তিনি বলেন।
মুখ্য অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ইসলামী চিন্তাবিদ মুফতি আবদুল বাসিত আল কাসিমী। তিনি বলেন, বিশ্বনবী (সা.) ছিলেন মানবতার আদর্শ। কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও তিনি দীর্ঘ ২৩ বছর মানবকল্যাণে কাজ করেছেন। তাঁর জীবন থেকে ধৈর্য, নৈতিকতা ও জ্ঞানার্জনের শিক্ষা নেওয়া যায়। তিনি মা-বাবার প্রতি সম্মান প্রদর্শনের গুরুত্বও তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কলেজের প্রিন্সিপাল ইনচার্জ ড. দেবদত্ত চক্রবর্তী। আরও বক্তব্য রাখেন দর্শন বিভাগের প্রধান অধ্যাপক হিলাল উদ্দিন লস্কর এবং কেমিস্ট্রি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. দিলুয়ার আলম খান। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বাংলা বিভাগের প্রধান অধ্যাপিকা ড. মমতাজ বেগম বড়ভুঁইঞা। দুপুর ২টায় দ্বিতীয় অধিবেশন শুরু হয়। এতে কুরআন তিলাওয়াত, নাত ও গজলসহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। অংশগ্রহণকারী ছাত্রছাত্রীদের পুরস্কৃত করা হয় এবং অতিথিদের হাতে স্মারক হিসেবে বই তুলে দেওয়া হয়।


