দেশের বিচারব্যবস্থা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিল সুপ্রিম কোর্ট। সোমবার এক মামলার শুনানিতে শীর্ষ আদালত জানিয়ে দিল, ইউএপিএ-র মতো কঠোর আইন থাকলেও দেশের আইনি ব্যবস্থায় “জামিনই মূল নিয়ম, জেল নয়” — এই নীতি এখনও সমানভাবে প্রযোজ্য। আদালতের এই পর্যবেক্ষণকে ঘিরে আইনজীবী মহল এবং মানবাধিকার কর্মীদের মধ্যে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে।
বিচারপতি বি ভি নাগরত্ন এবং বিচারপতি উজ্জ্বল ভূঁইয়ার বেঞ্চ এদিন স্পষ্ট করে দেয়, শুধুমাত্র ইউএপিএ ধারায় মামলা হয়েছে বলেই কাউকে দীর্ঘদিন জেলে আটকে রাখা যায় না। আদালত জানায়, সংবিধানে প্রত্যেক নাগরিকের ব্যক্তিগত স্বাধীনতার অধিকার রয়েছে এবং তা কোনওভাবেই উপেক্ষা করা উচিত নয়। বিচারপতিদের মতে, জামিনের আবেদন খারিজ করার ক্ষেত্রে আদালতকে প্রতিটি মামলার পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে হবে।
এই শুনানির সময়ই উঠে আসে দিল্লি দাঙ্গা ষড়যন্ত্র মামলায় অভিযুক্ত জেএনইউয়ের প্রাক্তন ছাত্রনেতা উমর খালিদের প্রসঙ্গ। ২০২০ সালের সেপ্টেম্বর মাস থেকে তিনি জেলে রয়েছেন। চলতি বছরের শুরুতে সুপ্রিম কোর্ট তাঁর জামিনের আবেদন খারিজ করেছিল। কিন্তু সোমবারের শুনানিতে বর্তমান বেঞ্চ সেই সিদ্ধান্তের কিছু দিক নিয়ে প্রশ্ন তোলে। আদালতের পর্যবেক্ষণ, দীর্ঘদিন বিচার শুরু না হওয়া সত্ত্বেও একজন অভিযুক্তকে জেলে রাখা নিয়ে আগের নির্দেশিকাগুলি যথাযথভাবে মানা হয়নি।
জাস্টিস ভূঁইয়া এদিন আগের একটি গুরুত্বপূর্ণ মামলার রায়ের কথাও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, যদি বিচার প্রক্রিয়ায় অস্বাভাবিক দেরি হয়, তাহলে ইউএপিএ মামলাতেও জামিন দেওয়া যেতে পারে। তাঁর মতে, বড় বেঞ্চের দেওয়া নির্দেশ কোনও ছোট বেঞ্চ এড়িয়ে যেতে পারে না। এই মন্তব্যের পর উমর খালিদের মামলার আগের সিদ্ধান্ত নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
আদালত আরও জানায়, তদন্ত শেষ না হওয়া বা বিচার শুরু না করেই বছরের পর বছর কাউকে জেলে রাখা উচিত নয়। এতে আইনের উদ্দেশ্য নষ্ট হয় এবং তা কার্যত বিচার শুরুর আগেই শাস্তির মতো হয়ে দাঁড়ায়। বিচারপতিরা বলেন, কোনও অভিযুক্তকে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্দি করে রাখা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার পক্ষে ভালো বার্তা নয়।
এই পর্যবেক্ষণ সামনে আসার পর মনে করা হচ্ছে, দিল্লি দাঙ্গা মামলায় দীর্ঘদিন ধরে জেলে থাকা আরও কয়েকজন অভিযুক্তের ক্ষেত্রেও নতুন করে জামিনের আবেদন জোরালো হতে পারে। আইন বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, সুপ্রিম কোর্টের এই মন্তব্য ভবিষ্যতে ইউএপিএ মামলাগুলির বিচারপ্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।


