উত্তরপ্রদেশের বুলন্দশহরের এক মেধাবী ছাত্রের সঙ্গে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনা ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এম. ফার্মে পড়াশোনা করা শান মুহাম্মদ অভিযোগ করেছেন, যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও একটি সরকারি প্রতিষ্ঠানের ইন্টারভিউ থেকে তাঁকে হঠাৎই বাদ দেওয়া হয়েছে।
শান একটি কৃষক পরিবার থেকে উঠে আসা ছাত্র। তাঁর বাড়ি আহমদপুর তান্ডা গ্রামে। বর্তমানে তিনি গ্রেটার নয়ডার একটি প্রতিষ্ঠানে ফার্মাকোলজি নিয়ে স্নাতকোত্তর করছেন। অনেক কষ্ট করে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া এই ছাত্র সম্প্রতি কেন্দ্রীয় ক্রীড়া ও যুব কল্যাণ মন্ত্রকের অধীনস্থ একটি সংস্থায় ইন্টার্নশিপের সুযোগ পান। প্রাথমিক বাছাইয়ের পর তাঁকে ইমেলের মাধ্যমে ইন্টারভিউয়ের জন্য ডাকা হয়।
এই ইন্টার্নশিপের জন্য মাসিক ভাতা নির্ধারিত ছিল ২০ হাজার টাকা। ৩০ মার্চ তাঁর অনলাইন ইন্টারভিউ ছিল। কিন্তু শানের দাবি, ইন্টারভিউ শুরু হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই সবকিছু বদলে যায়। প্রথমে তাঁর নাম জানতে চাওয়া হয়। নাম বলার পরই নাকি বোর্ডের আচরণ পাল্টে যায়।
তিনি জানান, কোনো বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন না করেই তাঁকে জানিয়ে দেওয়া হয় যে তিনি এই পদের জন্য উপযুক্ত নন। এরপর তাঁকে ইন্টারভিউ থেকে বেরিয়ে যেতে বলা হয়। কারণ জানতে চাইলে বলা হয়, তাঁর বিষয় এই কাজের সঙ্গে মেলে না। যদিও শানের মতে, ডোপ টেস্টিং ও ওষুধ বিশ্লেষণের ক্ষেত্রে ফার্মাকোলজি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এই ঘটনায় হতাশ শান বলেন, তিনি যথেষ্ট প্রস্তুতি নিয়েছিলেন, কিন্তু তাঁর জ্ঞান যাচাইয়ের সুযোগই দেওয়া হয়নি। তাঁর প্রশ্ন, শুধু নাম জানার পরেই কেন এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হল?
জানা গেছে, ওই ইন্টার্নশিপে নির্বাচিত ২২ জনের মধ্যে শানই ছিলেন একমাত্র মুসলিম প্রার্থী। এই ঘটনার পর তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের অভিজ্ঞতা শেয়ার করে বেশ কিছু প্রশ্ন তুলেছেন। সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে নির্দিষ্ট কোনো বিষয় বাদ দেওয়া ছিল না, তাহলে তাঁকে কেন অযোগ্য বলা হল?
প্রথম প্রজন্মের শিক্ষার্থী হিসেবে শানের পথচলা সহজ ছিল না। তাঁর বাবা চাষবাসের পাশাপাশি অন্য কাজ করে ছেলের পড়াশোনার খরচ জুগিয়েছেন। এর আগেও তিনি বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পে সফলভাবে কাজ করেছেন। এই ঘটনার পর অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, এটি কি শুধুই ব্যক্তিগত ঘটনা, নাকি এর পেছনে বড় কোনো সমস্যা লুকিয়ে আছে?


