দেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্ট সম্প্রতি ভোটার তালিকা নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ করেছে। আদালত জানিয়েছে, একটি নির্দিষ্ট নির্বাচনে কারও নাম ভোটার তালিকায় না থাকাটা যতটা না গুরুত্বপূর্ণ, তার চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ হল ভবিষ্যতের নির্বাচনে একজন নাগরিকের ভোটাধিকার বজায় থাকা। অর্থাৎ, দীর্ঘমেয়াদে ভোট দেওয়ার সাংবিধানিক অধিকারই বেশি মূল্যবান, মনে করছে সুপ্রিম কোর্ট।
এই মামলার শুনানিতে উপস্থিত ছিলেন প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি বিপুল পাঞ্চোলি। বিচারপতিরা জানিয়েছেন, ১৩ এপ্রিল এই বিষয়টি নিয়ে আরও বিস্তারিত আলোচনা হবে এবং প্রয়োজন হলে উপযুক্ত নির্দেশ দেওয়া হবে।
বিচারপতি বাগচী বলেন, প্রতিটি নির্বাচনের জন্য ভোটার তালিকা তৈরির একটি শেষ সময়সীমা থাকে। সেই সময়ের মধ্যে নাম অন্তর্ভুক্ত না হলে সমস্যা হয় ঠিকই, কিন্তু তার থেকেও বড় বিষয় হল ভবিষ্যতে ভোট দেওয়ার অধিকার অটুট রাখা। তিনি স্পষ্ট করেন, এই অধিকার দীর্ঘস্থায়ী এবং তা রক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি।
বর্তমানে রাজ্যে প্রায় ৬০ লক্ষ ভোটারের নাম যাচাই প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ২৭ লক্ষ মানুষের নাম ইতিমধ্যেই তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয়, এত বিপুল সংখ্যক মানুষের মধ্যে খুব কম সংখ্যক আবেদন এখনও পর্যন্ত ট্রাইব্যুনালে শুনানির জন্য উঠেছে।
নির্বাচনের নিয়ম অনুযায়ী, নির্দিষ্ট কিছু আসনের জন্য ভোটার তালিকা ইতিমধ্যেই চূড়ান্ত করা হয়েছে। ফলে প্রশ্ন উঠছে, যাঁদের নাম বাদ পড়েছে কিন্তু পরে তাঁরা ট্রাইব্যুনাল থেকে অনুমোদন পাবেন, তাঁদের কী হবে? তাঁরা কি এই নির্বাচনে ভোট দিতে পারবেন, নাকি পারবেন না? এই নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে ১৩ জন নাগরিক আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন। তাঁদের পক্ষের আইনজীবী রউফ রহিম যুক্তি দিয়েছেন, এই ব্যক্তিদের প্রত্যেকেরই পাসপোর্ট রয়েছে, যা তাঁদের পরিচয় প্রমাণ করে। তবুও তাঁদের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে, যা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। এর আগে একই ধরনের একটি ঘটনায় ফরাক্কার এক প্রার্থীর ক্ষেত্রে আদালত দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল, যাতে তিনি সময়মতো নির্বাচন প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পারেন। সেই প্রসঙ্গ তুলে ধরে আইনজীবী প্রশ্ন করেন, অন্যদের ক্ষেত্রেও কি একই রকম ব্যবস্থা নেওয়া হবে না?
আদালতে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে আইনজীবী ডি এস নায়ডু জানান, নির্দিষ্ট সময়ের পর ভোটার তালিকায় নতুন করে নাম যোগ করা সম্ভব নয়। তবে এই বক্তব্য নিয়ে আদালত এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি। প্রধান বিচারপতি বলেন, কারও নাম স্থায়ীভাবে বাদ দেওয়া হয়নি। অর্থাৎ, ভবিষ্যতে তাঁদের ভোটাধিকার ফিরে পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে এই মুহূর্তে সমানাধিকারের প্রশ্নটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে, কেন কিছু মানুষ দ্রুত সুযোগ পাচ্ছেন, আর অন্যরা অপেক্ষায় রয়েছেন?
এদিকে, সিপিএম-এর পক্ষ থেকেও আবেদন জানানো হয়েছে, ভোটার তালিকা চূড়ান্ত করার সময়সীমা বাড়ানো হোক। যাতে যাঁদের আবেদন এখনও বিচারাধীন, তাঁরাও ভোট দেওয়ার সুযোগ পান।অন্যদিকে, তামিলনাড়ুর এক মহিলাও আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ায় তিনি নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারেননি। যদিও তাঁর কাছে সমস্ত প্রয়োজনীয় নথি ছিল, তবুও তাঁকে সুযোগ দেওয়া হয়নি। সব মিলিয়ে, ভোটার তালিকা নিয়ে এই জটিল পরিস্থিতিতে আদালতের আগামী সিদ্ধান্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে।


