তামিলনাড়ুর তিরুচিরাপল্লি জেলায় আন্তঃজাত বিবাহকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্যকর একটি ঘটনা সামনে এসেছে। পরিবারের অমতে বিয়ে করার পর এক তরুণীকে জোর করে তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে তাঁর আত্মীয়দের বিরুদ্ধে। পাশাপাশি তরুণীর স্বামীর উপর হামলা, জাতিগত কটূক্তি এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। ঘটনার পর পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ করে তরুণীকে উদ্ধার করেছে এবং চারজন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ২৬ বছর বয়সি চিত্রাভল্লী এবং অজিত কুমারের পরিচয় হয় একটি দোকানে কাজ করার সময়। পরিচয় থেকে বন্ধুত্ব এবং পরে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। কিন্তু দু’জন ভিন্ন সম্প্রদায়ের হওয়ায় তাঁদের সম্পর্ক মেনে নিতে পারেনি তরুণীর পরিবার। পরিবারের আপত্তি সত্ত্বেও গত ২৫ জুন তাঁরা বিয়ে করেন।
বিয়ের পর নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কা থাকায় নবদম্পতি স্থানীয় মহিলা থানার দ্বারস্থ হন। পুলিশ উভয় পরিবারের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি খতিয়ে দেখে। পরে চিত্রাভল্লী নিজেই স্বামীর সঙ্গে থাকার ইচ্ছা প্রকাশ করলে তাঁকে অজিত কুমারের সঙ্গে যেতে অনুমতি দেওয়া হয়।
এর কয়েকদিন পর নতুন করে পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে। একটি অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ দুই পক্ষকে থানায় ডেকে পাঠায়। নির্ধারিত দিনে তরুণী, তাঁর স্বামী এবং শাশুড়ি থানায় হাজির হলেও অভিযোগকারী পক্ষের কেউ উপস্থিত হননি। জিজ্ঞাসাবাদ শেষ করে তাঁরা বাড়ি ফিরছিলেন।
অভিযোগ, ফেরার পথে জাতীয় সড়কের উপর তাঁদের অটোরিকশার পথ আটকে দেয় কয়েকজন। এরপর অজিত কুমারকে মারধর করা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে অপমানজনক মন্তব্য করা হয় এবং প্রাণে মেরে ফেলার হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। তারপর জোর করে চিত্রাভল্লীকে গাড়িতে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। স্বামী ও শাশুড়ি বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলেও তাঁরা সফল হননি।
ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ তদন্ত শুরু করে। অজিত কুমারের অভিযোগের ভিত্তিতে অপহরণ, হামলা এবং তফসিলি জাতিভুক্ত ব্যক্তির উপর অত্যাচার সংক্রান্ত ধারায় মামলা দায়ের করা হয়। তদন্তের সময় পুলিশ জানতে পারে, তরুণীকে তাঁর এক আত্মীয়ের বাড়িতে আটকে রাখা হয়েছে। সেখান থেকে তাঁকে উদ্ধার করে স্বামীর কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।
এই ঘটনায় তরুণীর ভাই, ভগ্নিপতি-সহ মোট চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অপহরণে ব্যবহৃত দুটি গাড়িও বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ। তদন্তকারীদের দাবি, বিয়ের পর থেকেই তরুণীর উপর স্বামীকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছিল।


