ত্রিপুরার কল্যাণপুর থানা এলাকার বাগবের গ্রামে গবাদি পশু চুরির অভিযোগকে কেন্দ্র করে এক মুসলিম ব্যক্তিকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। মৃতের নাম জলিলুর রহমান (৪৬)। তিনি গবাদি পশুর ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। বুধবার ভোরে ঘটনাটি ঘটে। পরিবারের দাবি, চুরির অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। স্থানীয় এক কৃষকের কাছ থেকে টাকা দিয়ে কেনা গরু আনতে গিয়েছিলেন জলিলুর। সেই সময়ই তাঁকে ঘিরে ধরে কয়েকজন মারধর করেন বলে অভিযোগ।
জলিলুরের বাড়ি গিলাতালি বাজার সংলগ্ন এলাকায়। পরিবারের বক্তব্য, মঙ্গলবার স্থানীয় এলাকায় সাপ্তাহিক হাট বসায় সেদিন কেনা গবাদি পশু বাড়িতে নিয়ে যেতে পারেননি তিনি। তাই বুধবার ভোরে কৃষক অনুকূল দেবনাথের বাড়ি থেকে কেনা দুটি গরু নিয়ে আসতে বেরিয়েছিলেন।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, ভোর সাড়ে ৪টে নাগাদ গরু নিয়ে যাওয়ার সময় কয়েকজন বাসিন্দার নজরে পড়েন জলিলুর। তাঁকে গবাদি পশু চোর বলে সন্দেহ করে ঘিরে ফেলা হয়। এরপর শুরু হয় মারধর। অভিযোগ, লাঠি ও অন্যান্যভাবে আঘাত করার ফলে তাঁর হাত-পায়ে গুরুতর চোট লাগে। একসময় ঘটনাস্থলেই তিনি পড়ে যান।
আহত অবস্থাতেও জলিলুর ফোন করে পরিবারের সদস্যদের ঘটনার কথা জানান বলে দাবি পরিবারের। খবর পেয়ে তাঁর স্ত্রী এবং শ্বশুর ঘটনাস্থলে পৌঁছন। অভিযোগ, তাঁদের উপরও হামলা চালানো হয়। পরে কল্যাণপুর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে জলিলুরকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। কল্যাণপুর হাসপাতালে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
এই ঘটনায় জলিলুরের পরিবারের পক্ষ থেকে আরও কিছু প্রশ্ন তোলা হয়েছে। তাঁদের দাবি, গরু আনতে যাওয়ার সময় জলিলুরের সঙ্গে তাঁর মোটরবাইকও ছিল। কিন্তু পরে সেটি অনুকূল দেবনাথের বাড়িতে পাওয়া যায় বলে পরিবারের দাবি। কীভাবে বাইকটি সেখানে গেল, পরে সেটি বাজার এলাকায় কীভাবে পৌঁছল এবং কে সেটি সরিয়েছিল, তা তদন্ত করে দেখার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
পরিবারের পক্ষ থেকে মোটরবাইক, মোবাইল ফোন, এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ-সহ সমস্ত সম্ভাব্য প্রমাণ খতিয়ে দেখার আবেদন জানানো হয়েছে। তাঁদের বক্তব্য, অনুমানের ভিত্তিতে নয়, ঘটনার সম্পূর্ণ তথ্য সামনে রেখেই তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।
ঘটনার পর তিপ্রা মথার নেতা শাহ আলম মিয়া জলিলুরের পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন। তিনি অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, হামলার পেছনে কারা ছিলেন, কীভাবে ঘটনার সূত্রপাত হয়েছিল এবং হামলার পর কী ঘটেছিল—সবই খতিয়ে দেখা দরকার।
জলিলুরের মৃত্যুর ঘটনায় কল্যাণপুর থানায় এফআইআর দায়ের হয়েছে। তবে এফআইআরে কোন কোন ধারায় মামলা হয়েছে এবং কতজনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। পরিবারের দাবি, দ্রুত এবং নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা সামনে আনা হোক এবং দোষীদের আইনের আওতায় আনা হোক।

