প্রাণনাশের ‘আশঙ্কায়’ আমেরিকা থেকে তড়িঘড়ি ইজরায়েলে ফিরিয়ে আনা হল প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর জ্যেষ্ঠপুত্র ইয়াইর নেতানিয়াহুকে। এমনটাই জানিয়েছে ইজরায়েলের অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা সংস্থা ‘শিন বেত’। তবে ঠিক কী ধরনের হুমকি ছিল বা সেই হুমকির উৎস সম্পর্কে বিস্তারিত কোনও তথ্য প্রকাশ করেনি গোয়েন্দা সংস্থাটি।
সম্প্রতি একটি ইজরায়েলি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু দাবি করেছিলেন, ইরান তাঁর এক পুত্রকে হত্যার চেষ্টা করেছিল। তিনি বলেছিলেন, ‘‘এটি অবিশ্বাস্য ঘটনা। ইরান আমার এক ছেলেকেও নিশানা করেছিল। তাঁকে হত্যার চেষ্টা করেছিল।’’ তবে তাঁর দুই পুত্রের মধ্যে কাকে নিশানা করা হয়েছিল, তা অবশ্য স্পষ্ট করেননি ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী।
এরপরই ‘শিন বেত’-এর তরফে জানানো হয়, ইয়াইর নেতানিয়াহুর নিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। সেই কারণেই নিরাপত্তা দলের সঙ্গে তাঁকে জরুরি ভিত্তিতে আমেরিকা থেকে ইজরায়েলে ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘নিউজম্যাক্স’-এর দাবি, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে ফ্লোরিডায় থাকার সময় ইয়াইর নেতানিয়াহুকে হত্যার ষড়যন্ত্র করা হয়েছিল। বিষয়টি জানার পর ইজরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মার্কিন প্রশাসনকে অবহিত করে বলে দাবি সংবাদমাধ্যমটির। এরপর ইয়াইরকে দ্রুত ফ্লোরিডা ছেড়ে ইজরায়েলে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। তাঁর সঙ্গে ইজরায়েলের একটি নিরাপত্তা দলও ছিল বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর মোট তিন সন্তান। তাঁর বড় ছেলে ইয়াইর নেতানিয়াহুর বয়স ৩৫ বছর। বেশ কয়েক বছর ধরে তিনি আমেরিকার ফ্লোরিডায় বসবাস করছিলেন। ইজরায়েলের নিরাপত্তা সংস্থা ‘শিন বেত’-এর তরফে তাঁর নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছিল।
নেতানিয়াহুর ছোট ছেলে আভনও ইজরায়েলেই থাকেন। তবে তিনি জনসমক্ষে খুব একটা আসেন না এবং অনেকটাই প্রচারবিমুখ। নেতানিয়াহুর এক কন্যাও রয়েছেন—নোয়া নেতানিয়াহু-রথ। তিনি জেরুজালেমে বসবাস করেন।
ইয়াইরকে ঘিরে এই নিরাপত্তা-আশঙ্কার ঘটনা এমন এক সময়ে সামনে এল, যখন ইরান-ইজরায়েল সংঘাতকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই চরম উত্তেজনা চলছে।


