জাতীয় স্তরের প্রবেশিকা ও যোগ্যতা নির্ধারণকারী পরীক্ষাগুলি নিয়ে ফের বিতর্কের মুখে পড়েছে ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (এনটিএ)। সাম্প্রতিক সময়ে একের পর এক পরীক্ষাকে ঘিরে ওঠা প্রশ্নের জেরে সংস্থার ভূমিকা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। এবার ইউজিসি-নেট পরীক্ষার প্রশ্নপত্রের মান নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন বহু পরীক্ষার্থী।
পরীক্ষার্থীদের একাংশের অভিযোগ, সমাজবিজ্ঞান বিষয়ের প্রশ্নপত্রে বেশ কিছু ত্রুটি চোখে পড়েছে। কোথাও বানান ভুল, কোথাও আবার ভাষাগত অসঙ্গতি ছিল বলে দাবি করা হয়েছে। এছাড়াও ইংরেজি বিষয়ের কয়েকটি প্রশ্ন আগের বছরের প্রশ্নপত্রের সঙ্গে হুবহু বা প্রায় একই রকম বলে অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পরীক্ষার স্বচ্ছতা ও মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে।
বৃহস্পতিবার বিষয়টি নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের সমালোচনায় সরব হয় কংগ্রেস। দলের প্রবীণ নেতা জয়রাম রমেশ সামাজিক মাধ্যমে একটি পোস্ট করে বলেন, পরীক্ষাগুলি পরিচালনার ক্ষেত্রে বারবার সমস্যা সামনে আসছে, যা সংশ্লিষ্ট সংস্থার সক্ষমতা নিয়ে সন্দেহ তৈরি করছে। তাঁর মতে, বিভিন্ন পরীক্ষায় দেখা দেওয়া গাফিলতি প্রমাণ করছে যে প্রতিশ্রুত সংস্কার বাস্তবে কার্যকর হয়নি।
জয়রাম রমেশ আরও দাবি করেন, শিক্ষাক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষাগুলির প্রশ্নপত্র তৈরির ক্ষেত্রে আরও সতর্কতা প্রয়োজন ছিল। তিনি অভিযোগ করেন, প্রশ্নপত্রে ভুল থাকা বা পুরনো প্রশ্নের পুনরাবৃত্তি হওয়া পরীক্ষার্থীদের প্রতি অবিচার। পাশাপাশি শিক্ষামন্ত্রকের তরফে যে উন্নতির আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল, তা এখনও বাস্তবায়িত হয়নি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
অন্যদিকে, নিট পরীক্ষাকে ঘিরে গত কয়েক মাস ধরে চলা বিতর্কও ফের আলোচনায় এসেছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, মে মাসে অনুষ্ঠিত পরীক্ষায় প্রায় ২২ লক্ষের বেশি পরীক্ষার্থী অংশ নিয়েছিলেন। পরে পুনরায় আয়োজিত পরীক্ষায় সেই সংখ্যা প্রায় ২০ লক্ষে নেমে আসে। ফলে কয়েক লক্ষ পরীক্ষার্থী পুনঃপরীক্ষায় অংশ নেননি বলে জানা গিয়েছে।
শিক্ষাবিদদের একাংশের মতে, পরীক্ষা সংক্রান্ত অনিশ্চয়তা এবং বারবার বিতর্কের কারণে বহু ছাত্রছাত্রীর মধ্যে মানসিক চাপ তৈরি হয়েছে। এর ফলে গোটা ব্যবস্থার উপর আস্থা কমেছে বলেও তাঁদের মত। তবে এনটিএ সূত্রে জানানো হয়েছে, অনেক পরীক্ষার্থী একই সময়ে জেইই এবং জেইই অ্যাডভান্সডের মতো অন্যান্য পরীক্ষাতেও অংশ নেন। সেখানকার ফলাফলের ভিত্তিতে অনেকে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বদলে ফেলেন। কেউ কেউ বিদেশে উচ্চশিক্ষার পথও বেছে নেন। তবু ধারাবাহিক বিতর্কের জেরে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষাগুলি পরিচালনায় এনটিএর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন কিন্তু থেকেই যাচ্ছে।


