মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার মধ্যে নতুন তথ্য সামনে এসেছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস-এর দাবি, যুক্তরাষ্ট্র কয়েকটি আরব দেশকে অনুরোধ করেছিল তারা যেন ইরানকে সতর্ক করে। কারণ, ইসরায়েল নাকি ইরানের দুই গুরুত্বপূর্ণ নেতা—পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এবং পার্লামেন্ট স্পিকার মহম্মদ বাঘের গালিবাফকে হত্যা করার পরিকল্পনা করছিল। ওয়াশিংটনের আশঙ্কা ছিল, এমন কিছু ঘটলে শান্তি আলোচনা ভেঙে যেতে পারে।
ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইসরায়েলের হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা নিহত হওয়ার পর সংঘাত আরও তীব্র হয়। শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের অবস্থান এক হলেও পরে মতপার্থক্য দেখা দেয়। যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ থামিয়ে আলোচনার পথে এগোতে চাইলেও ইসরায়েল সামরিক চাপ বজায় রাখতে আগ্রহী ছিল।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, আলোচনা শুরুর আগে আরও কয়েকজন ইরানি নেতাও হামলার শিকার হন। পরে যুক্তরাষ্ট্র মনে করে, আরাগচি বা গালিবাফের ওপর হামলা হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠবে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল-এর দাবি, মার্কিন চাপের মুখে ইসরায়েল সাময়িকভাবে এই দুই নেতাকে সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর তালিকা থেকে সরিয়ে নেয়।
জুনে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে একটি প্রাথমিক সমঝোতা হয়। এর উদ্দেশ্য ছিল হরমুজ প্রণালী স্বাভাবিক করা এবং পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা এগিয়ে নেওয়া। তবে ইসরায়েল এই উদ্যোগের বিরোধিতা করে।
এদিকে গালিবাফ একবার বড় ধরনের বিপদের মুখেও পড়েছিলেন। যুক্তরাষ্ট্র সফর শেষে ফেরার পথে খবর আসে, তার বিমানকে লক্ষ্য করে হামলার আশঙ্কা রয়েছে। পরে বিমানটি মাশহাদে জরুরি অবতরণ করে এবং তিনি সড়কপথে তেহরান পৌঁছান। এরপরও আরাগচি ও গালিবাফ শান্তি আলোচনায় অংশ নেওয়া চালিয়ে যাচ্ছেন।


