উত্তরপ্রদেশের কানপুর জেলার বিলহাওর বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি বিধায়ক রাহুল বচ্চা সোনকরের একটি মন্তব্যকে ঘিরে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। গরু জবাইয়ের অভিযোগকে কেন্দ্র করে মসজিদ নিয়ে তার করা মন্তব্যে ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ ও নাগরিক সমাজের বিভিন্ন মহল। সম্প্রতি বিলহাওরের একটি মন্দিরের কাছে পশুর দেহাবশেষ পাওয়া যায়। এই ঘটনার পরেই এলাকার হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলির তরফে বিক্ষোভ শুরু হয়। বজরং দলের কর্মীরাও পথে নেমে অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেফতার ও কড়া শাস্তির দাবি তোলেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ দু’জনকে গ্রেফতার করে এবং একটি কসাইখানা সিল করে দেয়। এই ঘটনায় আট জনের বিরুদ্ধে মামলা রুজু হয়েছে এবং নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।
মঙ্গলবার বিলহাওর থানায় গিয়ে বিধায়ক রাহুল বচ্চা সোনকর পুলিশকে ৪৮ ঘণ্টার সময়সীমা বেঁধে দেন। সেই সময় তিনি যে মন্তব্য করেন, গ্রেফতার না হলে প্রত্যেকটি মসজিদের বাইরে নিষিদ্ধ পশুর মাংস পাওয়া যাব। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তাঁর বক্তব্যে মসজিদ নিয়ে এমন কথা বলা হয়েছে, যা মুসলিম সমাজের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করেছে বলে অভিযোগ। এই মন্তব্যের পরেই মুসলিম অধ্যুষিত এলাকায় আতঙ্ক ও ক্ষোভ ছড়ায়। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, একজন জনপ্রতিনিধির মুখে এমন ভাষা সমাজে বিভাজন বাড়ায়। এক প্রবীণ মুসলিম বাসিন্দা বলেন, ধর্মীয় স্থানে অপমানের হুমকি কখনও গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।ঘটনার প্রেক্ষিতে পুলিশ প্রশাসন চার জন পুলিশকর্মীকে সাসপেন্ড করেছে, যার মধ্যে থানার ওসি-ও রয়েছেন। যদিও বিধায়ক তাঁর মন্তব্যের পক্ষে সাফাই দিয়েছেন, তবুও বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন ও মুসলিম সংগঠন তাঁর বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছে।


