উত্তরপ্রদেশে সরকারি শিক্ষার অবস্থা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, গত কয়েক বছরে রাজ্যে ২৩০০০ সরকারি স্কুল বন্ধ হয়ে গেছে। এর ফলে শিক্ষা ব্যবস্থার ওপর প্রভাব পড়েছে বলেই দাবি বিভিন্ন মহলের। বিশেষ করে গ্রাম ও প্রান্তিক এলাকার বহু পড়ুয়া এখন সমস্যার মুখে পড়ছে বলে অভিযোগ।
শিক্ষা নিয়ে এই পরিস্থিতির প্রতিবাদে পথে নেমেছে বাম ছাত্র সংগঠন এসএফআই। তাদের দাবি, একদিকে যেমন বহু স্কুল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, অন্যদিকে চালু থাকা স্কুলগুলিতেও পড়াশোনার পরিবেশ সন্তোষজনক নয়। অনেক জায়গায় পর্যাপ্ত শিক্ষক নেই, শ্রেণিকক্ষের অভাব রয়েছে, এমনকি স্কুল ভবনের অবস্থাও ভগ্নপ্রায়। ফলে পড়ুয়াদের নিয়মিত ক্লাস করা কঠিন হয়ে উঠছে।
রবিবার লখনউ শহরের একটি ব্যস্ত এলাকায় এসএফআই এর প্রচার কর্মসূচি ছিল। সাধারণ মানুষের কাছে এই সমস্যাগুলি তুলে ধরতেই তারা লিফলেট বিলি করছিল বলে সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়। তবে অভিযোগ, এই কর্মসূচির মাঝেই পুলিশ এসে বাধা দেয়। এর জেরে উত্তেজনা তৈরি হয়। সংগঠনের সদস্যদের বক্তব্য, তারা শান্তিপূর্ণভাবে নিজেদের মত প্রকাশ করছিলেন, তবুও প্রশাসনের এই পদক্ষেপ অনভিপ্রেত।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংগঠনের শীর্ষ নেতৃত্বও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। তাদের মতে, শিক্ষা সংক্রান্ত বাস্তব চিত্র জনসমক্ষে আসুক, তা প্রশাসন চায় না বলেই এমন বাধা সৃষ্টি করা হচ্ছে। একই সঙ্গে তারা অভিযোগ করেন, ধীরে ধীরে সরকারি শিক্ষার পরিসর কমিয়ে বেসরকারি শিক্ষার দিকে ঝোঁক বাড়ানো হচ্ছে, যার ফলে দরিদ্র পরিবারের ছাত্রছাত্রীরা সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়ছে।
এসএফআই নেতৃত্ব জানায়, এই পরিস্থিতির বিরুদ্ধে তাদের আন্দোলন আরও জোরদার করা হবে। রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় ইতিমধ্যেই সভা, মিছিল ও প্রচার কর্মসূচি শুরু হয়েছে। আগামী দিনে আরও বৃহত্তর আকারে এই প্রতিবাদ সংগঠিত করার পরিকল্পনা রয়েছে বলেও তারা জানায়।
সংগঠনের এক নেতা বলেন, শিক্ষা শুধু ছাত্রদের বিষয় নয়, এটি সমগ্র সমাজের অধিকার। তাই এই লড়াইয়ে সকলকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে। সরকারি স্কুল রক্ষার দাবিতে এবং শিক্ষার অধিকার বজায় রাখার লক্ষ্যে আন্দোলন চলবে, এমনই বার্তাই তুলে ধরেছে এসএফআই।


