উত্তরপ্রদেশের কান্নৌজ জেলায় এক নাবালিকা ছাত্রীকে অপহরণ করে নির্যাতনের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। অভিযোগ, ১৪ বছর বয়সী ওই কিশোরীকে তিনজন মিলে অপহরণ করে দু’দিন ধরে আটকে রেখে শারীরিকভাবে হেনস্থা করা হয়। ঘটনাটি সামনে আসতেই এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
জানা গিয়েছে, ওই কিশোরী হাম্মালিপুরার একটি মাদ্রাসায় প্রায় এক বছর ধরে পড়াশোনা করছিল। গত ৩ মে সকালে প্রায় ৮টা নাগাদ সে হোস্টেল থেকে কিছু খাবার কিনতে বের হয়। কিন্তু দীর্ঘক্ষণ পেরিয়ে গেলেও সে আর ফিরে না আসায় মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ তার পরিবারকে খবর দেয়। এরপরই শুরু হয় খোঁজাখুঁজি।
মেয়েটির বাবার অভিযোগ, দীপু নামে এক ব্যক্তি তাকে মিথ্যা কথা বলে ফুঁসলিয়ে নিয়ে যায়। সে জানায়, তার মা ডাকছেন। সরল বিশ্বাসে মেয়েটি তার সঙ্গে গেলে তাকে শেখপুরা এলাকায় একটি বাড়িতে জোর করে আটকে রাখা হয়। সেখানে আরও দুই অভিযুক্ত—সঞ্জীব ও ধীরজ—মিলে তাকে নির্যাতন করে বলে অভিযোগ।
পরিবারের দাবি, ওই সময় মেয়েটিকে জোর করে নেশাজাতীয় কিছু খাওয়ানো হয় এবং তার উপর একাধিকবার অত্যাচার চালানো হয়। এমনকি ঘটনাকে অন্য রূপ দিতে তার মাথায় সিঁদুর ও পায়ে আলতা লাগিয়ে ভুয়ো বিয়ের নাটক সাজানোর চেষ্টাও করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
দু’দিন পর মঙ্গলবার দুপুরে কোনওভাবে একটি মোবাইল ফোন হাতে পেয়ে সে তার মাকে ফোন করতে সক্ষম হয়। আতঙ্কিত অবস্থায় সে জানায়, যেখানে তাকে আটকে রাখা হয়েছে, সেখান থেকে মাদ্রাসার জানালা দেখা যাচ্ছে। এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের ভিত্তিতে পরিবার ও স্থানীয় মানুষজন আশপাশের বাড়িতে খোঁজ শুরু করেন।
শেষমেশ অভিযুক্তের বাড়ির ছাদ থেকে অচেতন ও বাঁধা অবস্থায় তাকে উদ্ধার করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দ্রুত তাকে হাসপাতালে নিয়ে যায়। চিকিৎসার পর জ্ঞান ফিরলে সে পুরো ঘটনার কথা জানায়।
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের ভিত্তিতে গুরুতর ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। একজন অভিযুক্তকে আটক করা হয়েছে, অন্যদের খোঁজে তল্লাশি চলছে। মূল অভিযুক্ত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে গিয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
এই ঘটনায় এলাকায় নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে আবাসিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়ুয়াদের সুরক্ষা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। প্রশাসন জানিয়েছে, ঘটনার পূর্ণ তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


