উত্তরপ্রদেশে এক ধর্ষণ মামলার অভিযুক্তকে ঘিরে বিতর্কিত ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। জেল থেকে জামিনে মুক্ত হয়ে গ্রামে ফিরতেই ওই ব্যক্তিকে ফুলের মালা পরিয়ে স্বাগত জানানোর অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কয়েকজনের বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয়, সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কিছু ভিডিও ঘিরে নতুন করে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে বিভিন্ন মহলে।
সূত্রের খবর, অভিযুক্ত ব্যক্তি পেশায় একজন স্কুলশিক্ষক। তাঁর বিরুদ্ধে নিজের এক ছাত্রীর উপর যৌন নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে। ঘটনার তদন্তের পর আদালত তাঁকে দোষী বলে ঘোষণা করে। প্রায় নয় মাস কারাবাসের পর সম্প্রতি তিনি জামিনে মুক্তি পান। এরপরই তাঁর গ্রামে ফেরাকে কেন্দ্র করে কিছু মানুষ আনন্দ উদযাপন করেন বলে অভিযোগ।
সমাজমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, সাদা পোশাক পরে ওই ব্যক্তি রাস্তা দিয়ে হাঁটছেন এবং তাঁর চারপাশে বহু মানুষ জড়ো হয়েছেন। কেউ তাঁর গলায় মালা পরিয়ে দিচ্ছেন, আবার কেউ হাত মিলিয়ে শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন। ভিডিওর একাংশে দেখা যায়, কয়েকজন তাঁকে কাঁধে তুলে গ্রাম ঘুরিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। সমর্থকদের কেউ কেউ হাত তুলে বিজয়ের চিহ্নও দেখাচ্ছেন। যদিও ভাইরাল হওয়া ভিডিওটির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এই ঘটনা সামনে আসতেই বিভিন্ন মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, গুরুতর অপরাধে অভিযুক্ত ও আদালতে দোষী সাব্যস্ত একজন ব্যক্তিকে কীভাবে এভাবে প্রকাশ্যে সম্মান জানানো হতে পারে। সমাজকর্মী এবং নারী অধিকার আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের একাংশের বক্তব্য, এই ধরনের আচরণ নির্যাতিতাদের প্রতি ভুল বার্তা দেয় এবং সমাজে অপরাধের বিরুদ্ধে লড়াইকে দুর্বল করে।
রাজনৈতিক মহলেও এই ঘটনাকে ঘিরে শুরু হয়েছে চাপানউতোর। বিরোধীরা রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। পাশাপাশি, অনেকেই বিলকিস বানো মামলার সময় দোষীদের সংবর্ধনা দেওয়ার ঘটনার সঙ্গে এই ঘটনার মিল খুঁজে পাচ্ছেন। সেই প্রসঙ্গ টেনে সোশ্যাল মিডিয়ায় সমালোচনার ঝড় উঠেছে।
এদিকে প্রশাসনের তরফে এখনও পর্যন্ত এই ঘটনায় কোনও সরকারি প্রতিক্রিয়া সামনে আসেনি। তবে ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে তদন্তের দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশও ঘটনার নিন্দা করেছেন। তাঁদের মতে, এ ধরনের ঘটনা সমাজে অত্যন্ত নেতিবাচক প্রভাব ফেলে এবং বিচার ব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থাকেও আঘাত করে।


