ধর্ষণ মামলায় অভিযুক্ত উত্তরপ্রদেশের হিন্দু যুবা বাহিনীর প্রাক্তন নেতা সুশীল প্রজাপতি জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। তবে গাজিয়াবাদ জেলা কারাগার থেকে তার বের হওয়ার পর সমর্থকদের অতি-উদ্যাপন এবং সংবর্ধনা ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র বিতর্ক ও সমালোচনার ঝড় উঠেছে।
সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, প্রায় আট মাস জেল খাটার পর বের হওয়া সুশীল প্রজাপতিকে তার শতাধিক সমর্থক গাঁদা ফুলের মালা পরিয়ে কাঁধে তুলে নিয়েছেন। চারপাশের মানুষজন উল্লাস করছেন, বিজয়ের চিহ্ন দেখাচ্ছেন এবং মিছিল করে তাকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। একজন ধর্ষণ-অভিযুক্তকে এভাবে নায়কের মতো বরণ করার ঘটনাটি সাধারণ মানুষের মনে ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।
এই ঘটনার পর রাজ্যের নারী নিরাপত্তা নিয়ে ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকারকে তীব্র নিশানা করেছেন সমাজবাদী পার্টির প্রধান তথা উত্তরপ্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অখিলেশ যাদব। একজন ধর্ষণ-অভিযুক্তকে এভাবে প্রকাশ্যে সংবর্ধনা দেওয়া অত্যন্ত উদ্বেগজনক ও লজ্জাজনক বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, গত বছরের আগস্ট মাসে গাজিয়াবাদের মুরাদনগর এলাকায় এক ২৩ বছর বয়সী আইন পড়ুয়া তরুণীকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে সুশীল প্রজাপতির বিরুদ্ধে। নির্যাতনের শিকার তরুণী পুলিশকে জানান, গাজিয়াবাদ আদালতের বড় আইনজীবীদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার নাম করে সুশীল তাকে একটি ফ্ল্যাটে ডেকে নিয়ে যান। সেখানে তাকে একটি ঠান্ডা পানীয় খেতে দেওয়া হয়, যা পান করার পরপরই তিনি অচেতন হয়ে পড়েন। সেই সুযোগেই সুশীল তার ওপর পাশবিক নির্যাতন চালান।
তরুণীর অভিযোগ ছিল, ঘটনার পর সুশীল প্রজাপতি নিজের রাজনৈতিক প্রভাবের ভয় দেখিয়ে তাকে মুখ বন্ধ রাখতে বলেন এবং রাস্তার ওপর ফেলে রেখে চলে যান। অভিযোগ দায়েরের পর পুলিশ সুশীলকে গ্রেফতার করেছিল। দীর্ঘ আট মাস পর তিনি জামিন পেতেই তার সমর্থকরা এই বিতর্কিত উদ্যাপনের আয়োজন করেন, যা দেশের নারী নিরাপত্তা এবং বিচারব্যবস্থার নৈতিকতা নিয়ে নতুন করে বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।


